১৫ বছর ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ, বিল নিতেন ভাড়াটিয়া থেকে

আপডেট : ২০ জুন ২০২৩, ২১:০৭

রাজধানীর কামরাঙ্গীর চর, আশ্রাফাবাদ, মাদবর বাজার, হাজারীবাগসহ আশপাশের এলাকায় বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত অবৈধ গ্যাস সংযোগ এবং বিল খেলাপি থাকায় সংযোগ বিচ্ছিন্নে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। এ সময় ওই এলাকায় বাসাবাড়ির ৮০টি অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরমধ্যে বকেয়ার কারণে ৫৯ ও অবৈধ সংযোগ ২১টি।   

মঙ্গলবার (২০ জুন) দিনব্যাপী কামরাঙ্গীর, আশ্রাফাবাদ, মাদবর বাজার, হাজারীবাগসহ আশপাশের এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এই বিশেষ অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন তিতাস গ্যাসের ঢাকা মেট্রোর রাজস্ব বিভাগ-৫ এর মহাব্যবস্থাপক রশিদুল আলম এবং উপমহাব্যবস্থাপক মো. তোফাজ্জল হোসেন। ১৪ টি টিম একসঙ্গে এই অভিযানে অংশ নিয়ে বিল খেলাপি ও অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। 

এলাকাবাসীরা জানায়, এই এলাকার ৯০ শতাংশ অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে থাকে, এ কারণে বৈধ গ্যাস সংযোগকারীরা গ্যাস পাচ্ছেন না। এরপরও রাতের আঁধারে একটি চক্র তিতাসের মূল সংযোগ থেকে নিম্নমানের পাইপ দিয়ে বিভিন্ন বাড়িওয়ালার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ প্রদান করে আসছে।

ছবি: তানভীর আহম্মেদ

তিতাসের আভিযানিক দল মো. দেলোয়ার হোসেন নামে এক ব্যাক্তির বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ পেয়েছে। জানা গেছে, তিনি বিগত ১৫ বছর ধরে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। ওই বাড়ির ভাড়াটিয়াদের দাবি, তারা প্রতি মাসে গ্যাস বিল দিয়ে আসছে, কিন্তু বাড়িওয়ালা এই বিষয়ে অস্বীকার করে এবং বৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়ে কোনো কাগজ দেখাতে না পেরে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

আভিযানিক দলের সদস্য তিতাসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা সালেহ আহাম্মদ আলমগীর বলেন, আজ আমরা কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সকাল থেকে অভিযান চালাচ্ছি। এই এলাকায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করছে, তালিকা অনুযায়ী সবগুলো আমরা বিচ্ছিন্ন করেছি। এদের বিরুদ্ধে আইননুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য সুপারিশ করা হবে। 

ছবি: তানভীর আহম্মেদ

অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া তিতাসের ঢাকা মেট্রোর রাজস্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রশিদুল আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমরা এসব এলাকায় নজর রাখছি, যতটুকু পরিমাণে গ্যাস ব্যবহার করা হয় তার চার ভাগের এক ভাগ পরিমাণ বিল জমা হয়।

তখন আমরা অনুসন্ধান টিম পাঠিয়ে নিশ্চিত হলাম প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে অবৈধ সংযোগ রয়েছে। যে কয়টি বৈধ সংযোগ আছে সেইগুলোও বিল খেলাপি করছে। কারও কারও ১০ বছরেরও অধিক সময়ের বিল বকেয়া আছে। সেই সকল বিল খেলাপি ও অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। যতদিন পর্যন্ত বিল খেলাপি ও অবৈধ সংযোগ থাকবে ততদিন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ইত্তেফাক/এএএম