বন্ধু রাতুল, রোহান এবং এনির প্রতিদিনের জীবনযাপন নিয়ে নির্মিত হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম থ্রিডি অ্যানিমেটেড ওয়েব সিরিজ ‘এক্সডি ব্রোজ’। তিন বন্ধুর মধ্যে রাতুল হচ্ছে দুষ্টু-প্রকৃতির। সে সুযোগ পেলেই রোহান ও এনির সাথে প্রাঙ্ক করে। অন্যদিকে, এনি সবচেয়ে চালাক চরিত্র। যে রাতুল, রোহান কোনো বিপদে পড়লে তাদের সাহায্য করে। রোহান হচ্ছে এই সিরিজে সবচেয়ে বোকা চরিত্র। বোকা হলেও টেকনোলজি নিয়ে তার রয়েছে অনেক আগ্রহ। এভাবেই ভিন্নধর্মী তিনটি চরিত্র এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘এক্সডি ব্রোজ’ সিরিজ। এটি তৈরি করছেন তিন তরুণ। তারা জানান, সিরিজটি মূলত নতুন জেনারেশনদের টার্গেট করে বানানো। গত দুই বছর ধরে আমরা এই প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করছি। এবং খুব শিগগিরই রিলিজ দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।
টিমের সদস্যরা হলেন কম্পিউটার সাইয়েন্স নিয়ে আরটিবি রুহান, ভিজুয়্যাল গ্রাফিক নিয়ে অধ্যয়নরত রাতুল এবং একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত লামিয়া হান্নান স্নেহা।
সিরিজটিতে নতুনত্বের কথা জানিয়ে টিম এক্সডি জানায়, আমরা চেষ্টা করেছি বাংলাদেশের গতানুগতিক কনটেন্টগুলো থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং নতুন কোনো কনটেন্ট নিয়ে আসার। এবং বিশ্বমানের কনটেন্টগুলোর সাথে তুলনামূলক কনটেন্ট দিয়েই তৈরি করা এ সিরিজ। প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র চরিত্রই সিরিজটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। কনটেন্টগুলোর মধ্যে আমরা বাস্তবিকতার সাথে বিনোদন রাখতে চেয়েছি। এছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এই প্রথম সিটকম জনরার সিরিজ হওয়ায় দর্শকের জন্য সিরিজটি সম্পূর্ণই নতুন কিছু হবে।
সিরিজটি মূলত ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী দর্শককে টার্গেট করে বানানো হয়েছে বলে জানায় এক্সডি ব্রোজ-এর সদস্যরা। তারা জানায়, সিরিজের চরিত্রগুলো কমার্শিয়াল হলেও এদের কিছু বিশেষত্ব আছে, যা ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের জন্য কৌতুহলী ও চিত্তবিনোদনমূলক হবে। বাংলাদেশে এমন কনটেন্ট খুব একটা কমন না হওয়ায় আমরা এটি নিয়ে খুব আশাবাদী।
সিরিজটির পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে টিম এক্সডি ব্রস জানায়, ২০২১ সালের শেষের দিকে আমরা প্রজেক্টটি হাতে নেই। চেষ্টা ছিল এমন কিছু নিয়ে আসার, যা বাংলাদেশে কখনো হয়নি। বাংলাদেশেও যে অ্যানিমেশন সিরিজ তৈরি করা সম্ভব— সেটি সকলের সামনে তুলে ধরার আশায় এ সিরিজ নিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেই।
চরিত্রগুলো ডিজাইনের কাজ ডিজাইন সেট করার জন্য বিভিন্ন লোকেশনে গিয়ে সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়েছে। সম্পূর্ণ কাজটির জন্য বাইরের দেশ থেকে কিছু শিল্পীকে টিমে যুক্ত করা হয়েছে। আগে থেকেই তাদের ‘নাল স্টেশন’ নামের একটি ছোট স্টুডিও ছিল। এ স্টুডিও থেকেই প্রজেক্টটি পাবলিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সেভাবেই সবকিছু সাজানো হয়। টিমের স্টোরি রাইটার লামিয়া হান্নান স্নেহা বলেন, ‘অ্যানিমেশন সিরিজটির গল্পের জন্য নতুন করে গল্পগুলো সাজাই। চেষ্টা করেছি সবকিছু যতটা সম্ভব রিলেটেবল রাখার।’
