মোবাইল বা কম্পিউটারকে কোনো কমান্ড দিলে স্ক্রিনে যে লেখাগুলো ভেসে ওঠে বা শত শত ফাইলের ভিড়ে মুহূর্তেই কাঙ্ক্ষিত ফাইলটি কিভাবে সামনে চলে আসে— এমনসব চিন্তায় ছোট থেকেই বিভোর থাকত আরিফ আলমাছ। তবে নিম্নবিত্ত পরিবারের সাধ্য হয়নি আরিফকে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দেওয়ার। কখনো বড় ভাইয়ের, কখনো বন্ধুদের মোবাইল নিয়ে গেমিং ও ব্রাউজিং করে স্বাদ মেটাতে হয়েছে তাকে।
একসময় আরিফের মধ্যে প্রবল ইচ্ছা জাগে— কম্পিউটারের ভাষা দখলে নেওয়ার। কিন্তু প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ শিখতে হলে তো ভর্তি হতে হবে কোনো কোর্সে, আর সেখানে প্রয়োজন টাকা। তাই খুব শখের সাইকেলটি মাত্র আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করে সে ওয়েব ডেভেলপমেন্টের একটি কোর্স কিনে এবং এটি থেকে সর্বোচ্চ উপকৃত হওয়ার চেষ্টা করতে থাকে। তবে তার প্রয়োজন দেখা দেয় শুরুর পর্যায়ের একটি কোর্স ও কমিউনিটি। সেখানেও যে টাকা প্রয়োজন। খুব সাহস করে মাকে জানালে তিনি খুব কষ্টে ধার-দেনা করে জোগাড় করে দিলেন সেই টাকা। নতুন কোর্সে ভর্তি হলেন আরিফ; যে কোর্স বেশ ফলপ্রসূ হলো। দিনরাত প্রোগ্রামিংয়ের জটিল বিষয়গুলো নিয়ে চর্চা করে এলগরিদম-ডাটা স্ট্রাকচারে দক্ষতা অর্জন করে এবং নির্ধারিত একটি চাকরি পেয়ে যায় আরিফ। কিশোর বয়সেই প্রোগ্রামিং কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের এক্সিকিউটিভ অ্যান্ড সাপোর্ট ইনস্ট্রাকটর হিসাবে যোগ দেয়।
ইত্তেফাক প্রজন্মকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরিফ বলে, ‘কোর্সে ভর্তি হওয়ার পর অনেকেই বলেছিলেন—শুধুই টাকা নষ্ট করছে! কিন্তু যেদিন চাকরির নিয়োগপত্র হাতে পেলাম সেদিন মনে হয়েছিল আমি জিতে গিয়েছি।’
আরিফ বর্তমানে চাকরির পাশাপাশি অনলাইন মার্কেট প্লেসে আউটসোর্সার হিসাবেও কাজ করছে। তার জন্ম বগুড়ার আদমদিঘীতে। লেখাপড়া করছে প্রান্নাথপুর বহুমুখী বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে। ভবিষ্যতে আরিফ একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।

