বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

সিসিকের বর্ধিত এলাকায় ভোটরদের আগ্রহ বেশি

আপডেট : ২১ জুন ২০২৩, ১৫:৩৫

এবার সিসিক নির্বাচনে নতুন গঠিত ওয়ার্ডগুলোতে ভোটের আমেজ বেশি। নতুন ১৫টি ওয়ার্ডে নারী-পুরুষ ভোটাররা প্রথমবারের মতো সিসিকের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিচ্ছেন। সিসিকের পুরাতন ২৭ ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে সকালের দিকে তেমন উপস্থিতি ছিল না। তবে দুপুরের পর কিছুটা ভিড় বাড়তে থাকে।

বুধবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে বর্ধিত ওয়ার্ডের বিভিন্ন কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক ভোটার দেখা যায়। উপশহর, খাদিমসহ বিভিন্ন এলাকায় বেলা বাড়ার পর ভোটারদের ভিড় বাড়ে।

সিসিক নির্বাচনে নতুন গঠিত ওয়ার্ডগুলোতে ভোটের আমেজ বেশি। ছবি: ইত্তেফাক

সিসিক নির্বাচন সকাল ৮টা থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন কেন্দ্রে ইভিএম পদ্ধতি না বোঝার কারণে ভোটগ্রহণ বিলম্বিত হয়।

সিটি করপোরেশনের ৪২ ওয়ার্ডের মধ্যে নতুন ১৫ ওয়ার্ডের মধ্যে নগরীর ৩৮ নং রশিদয়া দাখিল মাদ্রসা ও মইয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নারী-পুরুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায় বেলা ১২টার দিকে। এ সময় ২৮ নং ওয়ার্ডে নারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৪ নং ওয়ার্ডের শাহপরান কৃষ্ণগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ে বেলা ১২টায় ৮০০ ভোটগ্রহণ হয়। এখানে ভোটার ২ হাজার ২৪৫ জন বলে জানান প্রিজাইডিং অফিসার সুচয়ন দাস।

বেলা আড়াইটায় ৩০ নং ওয়ার্ডের মহালক্ষী সরকারি প্রথমিক বিদ্যলয়ে ভিড় ছিল দেখার মতো। ৩৫ নং ওয়ার্ডের সৈয়দ জাহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকাল ৯টায় দেখা গেছে ভোটারদের সরব উপস্থিতি। এই কেন্দ্রে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার বেশি দেখা যায়।

সিসিক নির্বাচনে নতুন গঠিত ওয়ার্ডগুলোতে ভোটের আমেজ বেশি। ছবি: ইত্তেফাক

৩২ নং ওয়ার্ডের মিরাপাড়া আব্দুল লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র ও ইসলামপুর বাজারস্থ দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সহ সব কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি বেশি।

এদিকে সকাল ৭টা থেকেই লাইনে দাঁড়ান ভোটাররা। ইভিএমে ভোট দেওয়া নিয়ে এক ধরণের কৌতুহল কাজ করছে তরুণ ভোটারদের মধ্যে। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় ভোটাররা ভোট দিচ্ছেন।

কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, পুরুষদের চাইতে নারী ভোটারের লাইন দীর্ঘ। তাদের মাঝেও রয়েছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা।

এবারের সিসিক নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে মোট ১৯০টি। এর মধ্যে ১৩২ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্ধিত এলাকাসহ এবার মোট ৪২টি ওয়ার্ড নিয়ে সিসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা হলেন ৪ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬৩ জন ও ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮৪ জন হলেন নারী ভোটার।

সিসিক নির্বাচনে নতুন গঠিত ওয়ার্ডগুলোতে ভোটের আমেজ বেশি। ছবি: ইত্তেফাক

নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাকের পার্টি- এই তিনটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীসহ মোট ৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। তবে বরিশাল সিটি নির্বাচনের দিন ভোট থেকে সরে দাঁড়ান ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী হাফিজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান।

অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ১৯০ প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ দায়িত্ব পালন করছেন সাড়ে ৪ হাজারেরও অধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা। ৪২ নির্বাহী ও ১৪ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। ১০ প্লাটুন বিজিবি, র‍্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৭ হাজার সদস্যকে মাঠে নামানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসকে