বন্যা পরিস্থিতি লইয়া উদ্বেগ বাড়িতেছে!

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৩, ০৪:০৫

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাইয়াছে, আগামী পাঁচ দিন সারা দেশে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাইতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা হইতেছে। গতকাল বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার খবর হইতে জানা যায়, কুড়িগ্রামে কয়েক দিন ধরিয়া ভারী বৃষ্টি ও উজান হইতে নামিয়া আসা ঢলে এখানকার নদনদীর পানি বাড়িয়া চলিয়াছে এবং বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করিতেছে। নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি উঠানামা করিতেছে বিপদসীমার কাছাকাছি। এই জন্য তিস্তা ব্যারাজের সব কয়টি জলকপাট (৪৪টি) খুলিয়া দিয়া সতর্কাবস্থায় রহিয়াছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা ব্যতীত সব প্রধান নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাইতেছে। এইভাবে নদনদীর পানি বাড়িতে থাকায় বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হইতেছে। অনেকে হইয়া পড়িয়াছেন পানিবন্দি। বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়াছে নদীভাঙন। ইহাতে মানুষ অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্টে নিপতিত হইতেছে। ইত্তেফাকের এক খবরে বলা হইয়াছে যে, যমুনা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বাড়িয়া যাওয়ায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ২০টি ঘরবাড়ি বিলীন হইয়া গিয়াছে। ইহাতে সহায়-সম্বলহীন হইয়া পড়িয়াছেন অনেক মানুষ। বন্যাজনিত দুর্ভোগে এখন তাহারা দিশাহারা।

আবহাওয়া অফিস হইতে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট বিভাগসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হইয়াছে। এই সকল এলাকায় বন্যার আশঙ্কায় এখনই সতর্কতাস্বরূপ পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক। এইখানকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পার্শ্বে আসিয়া আমাদের দাঁড়াইতে হইবে যথাসময়ে। বন্যা আমাদের দেশে একটি সাংবৎসরিক দুর্যোগ। গবেষকদের মতে, বাংলাদেশে অন্য সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগে মোট যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়, কেবল বন্যায় তাহার চাইতে কয়েক গুণ বেশি ক্ষতি সাধিত হয়। কিন্তু বন্যা পরিস্থিতি স্থায়ীভাবে মোকাবিলা করিবার কথা আমরা তেমন ভাবিতেছি না। বন্যা আমাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করিতেছে। অথচ ইহা লইয়া আমাদের তেমন মাথাব্যথা নাই। ডেলটা প্ল্যান একটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এই উদ্যোগের বাস্তবায়ন কতটা শুরু হইয়াছে? ব্লু ইকোনমির ক্ষেত্রে আমরা এখনো কেবল আশাবাদের মধ্যে রহিয়াছি, কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ কতটা হইতেছে তাহা একটি প্রশ্ন। একই প্রশ্ন, বন্যা মোকাবিলায় আমরা কতটা কাজ করিতেছি। বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা হইতে আমাদের মুক্তি পাইতে হইলে নদনদীগুলিকে আমাদের আগে রক্ষা করিতে হইবে। অথচ আমরা পত্রিকায় খবর দেখি, ৫০ হাজারেরও বেশি নদীর দখলদার রহিয়াছে এই দেশে। নদীর নাব্য ফিরাইয়া আনিবার পাশাপাশি নদীগুলিকে দখল ও দূষণের হাত হইতে রক্ষা করিতে হইবে। নদীর দুই ধারে বা প্লাবনভূমি এলাকায় যে কোনো স্থায়ী ও পাকা স্থাপনা নির্মাণকে নিরুত্সাহিত বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করিতে হইবে। এমনকি নদীর ধারে মানববসতি স্থাপনকেও নিরুত্সাহিত করা প্রয়োজন। নদীর আশপাশে কোনো প্রকার পাকা স্থাপনা নির্মাণ না করিলে আমাদের ক্ষয়ক্ষতিও কমিয়া আসিবে।

এই বছর বন্যা লইয়া আমাদের উদ্বেগের আরও কারণ রহিয়াছে। জানা যায়, উজানে ভারতের আসাম, সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচুর বৃষ্টি হইতেছে। আসামে প্লাবিত হইয়াছে অন্তত ২০টি জেলা। সেই সকল অঞ্চলে আরও কয়েক দিন ধরিয়া বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকিতে পারে। সেই পানি যতই নামিয়া আসিবে, বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতিরও ততই অবনতি হইবে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে যমুনা, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলগুলি প্লাবিত হইতে পারে। ইহাতে দেশের অনেক অঞ্চলে আসন্ন ঈদুল আজহার আনন্দ ম্লান হইয়া পড়িতে পারে। তাহাদের কথা আমাদের এখন হইতেই ভাবিতে হইবে। বন্যা সমস্যার টেকসই সমাধান করিতে হইলে বিভিন্ন নদীর খননের বিকল্প নাই। নদীগুলির তীর রক্ষায় শক্তিশালী বাঁধ নির্মাণ করিতে হইবে পর্যায়ক্রমে। ইহা ছাড়া তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখিতে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক উদ্যোগ গ্রহণ করিতে হইবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন