সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৮ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

রাজধানীতে এবারও জলাবদ্ধতার শঙ্কা

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ০১:০০

রাজধানীতে বর্ষা এলেই বৃষ্টিতে সড়কে হাঁটুসমান পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় শহরের বিভিন্ন সড়ক। এর মূল কারণ, খালগুলো অবৈধ দখল, পানিপ্রবাহ ঠিক না থাকা ও পানি শোষণের জন্য উন্মুক্ত জায়গার অভাব। রাজধানীর জলাবদ্ধতা দূর করতে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার দায়িত্বে থাকা সব নালা ও খাল দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল ও নালায় পানির প্রভাব ফিরিয়ে আনতে বর্জ্য অপসারণ ও সীমানা নির্ধারণ করে খাল উদ্ধারে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। 

তবে কাজ এখনো চলমান থাকায় এ বছরও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন বলছে, বৃষ্টির পরে পানি জমলেও তা বেশি সময় স্থায়ী হচ্ছে না। খুব দ্রুত পানি নেমে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আরও সুফল পাবে নগরবাসী। 

একসময় ঢাকা মহানগরীতে প্রধান ড্রেন লাইনগুলো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ছিল ঢাকা ওয়াসার। শাখা লাইনগুলোর দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপর ন্যস্ত ছিল। সে সময় রাজধানীর মোট ড্রেনেজ লাইনের মধ্যে ৩৮৫ কিলোমিটার ঢাকা ওয়াসার অধীনে এবং প্রায় ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটার ঢাকা সিটি করপোরেশনের অধীনে ছিল। এর বাইরে ৭৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ২৬টি খাল ও ১০ কিলোমিটার বক্স-কালভার্ট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও ছিল ঢাকা ওয়াসার। যে কারণে বর্ষায় সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে সংস্থাগুলো একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে আসছিল। ওয়াসার দায়িত্বে থাকা সব নালা ও খাল দুই সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর খাল থেকে বর্জ্য অপসারণ, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও খালের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করে দুই সিটি। তবে এখনো পুরোপুরি সুফল পাওয়া শুরু করেনি নগরবাসী। এখনো বৃষ্টি হলে পানি জমার ঘটনা ঘটছে। এক সপ্তাহ আগেও বৃষ্টির পর মিরপুরের কালশী, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড, যাত্রাবাড়ী, শান্তিনগর, মালিবাগ, সিদ্ধেশ্বরীসহ অর্ধশতাধিক পয়েন্টে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, প্রাইভেট কারের ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বিকল হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় অনেক সড়কে।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজধানীর কিছু স্থানে জলাবদ্ধতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঐসব পয়েন্টের জলাবদ্ধতা নিরসনে তারা কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যেসব এলাকায় বেশি পানি জমতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে উত্তরা-১, কাওলা, মিরপুর-১৪, কল্যাণপুর, পাইকপাড়া, উত্তরা থেকে বনানী পর্যন্ত সড়ক ও হাতিরঝিল। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বন্ধ নর্দমা, সরু নালা, পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতাকে জলাবদ্ধতার কারণ বলে চিহ্নিত করেন প্রকৌশলীরা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে বলা হয়, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খালগুলো হস্তান্তরের পর তা দখলমুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। অনেক খাল পরিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পরই এলাকাবাসী খালগুলোতে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে, স্থাপনা গড়ে তুলছে। এ চিত্র রাজধানীর ২৬টি খালেই আছে।

তারা ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি’ শীর্ষক ৯৮১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় খাল উদ্ধার করে দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে, সাইকেল লেন, মাছ ধরার ছাউনি, বাগান, ফুটওভারব্রিজ, গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। একই কাজ করতে চায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও (ডিএনসিসি)। 

ডিএনসিসি জানায়, তাদের আওতাধীন ‘খাল এবং একটি রেগুলেটিং পণ্ডের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদের পর সীমানা নির্দেশক পিলার স্থাপন, খাল ও পণ্ডের জিআইএস ডাটাবেজ তৈরি’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর কাজ চলমান। এ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত খাল পরিষ্কার ও পাড় সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খালের সঙ্গে নদীর সংযোগ বাড়ানোর কাজ চলছে। কল্যাণপুর রেগুলেটরি পণ্ডের খননকাজ ও বর্জ্য অপসারণের কাজও চলমান। জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের জন্য একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।

খালগুলো উদ্ধারের বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, শহরের অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। তিনি খালগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খালের সীমানা নির্ধারণ করে পিলার বসানোর কাজ করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। এতে জনগণ সুফল পাবে।

ইত্তেফাক/এমএএম