রাজশাহীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ২ পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৩ জুন) রাত ১টার দিকে চারঘাট উপজেলার কালুহাটি গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তাররা হলেন চারঘাট উপজেলার কালুহাটি গ্রামের মৃত হাবিল উদ্দিনের ছেলে মফিজ উদ্দিন (৭৫) ও মৃত মকছেদের ছেলে খেতাব (৮০)।
জানা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন চারঘাট থানা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সহযোগিতায় রাজাকার খেতাব, মফিজ এবং তাদের সহযোগীরা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার কারণে অনেকের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছিল এবং নৃশংসভাবে মানুষকে হত্যা করেছিল।
এসব ঘটনায় চারঘাট উপজেলার কালুহাটি গ্রামের শহীদ রওশন আলী সরকারের ছেলে গোলাম হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। এই মামলায় আসামি ছিলেন ছয়জন। এদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন এবং তিনজন পলাতক ছিলেন। পলাতক তিনজনের মধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখনো একজন পলাতক রয়েছেন।
মামলায় বলা হয়, শহীদ রওশন আলী সরকার এবং রোস্তমপুর গ্রামের কলিম উদ্দিনকে আসামিদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী আটক করে বিবস্ত্র করে গাড়ির পেছনে বেঁধে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। এর পাশাপাশি বাদীসহ তাদের প্রতিবেশী অনেকের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল।
পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি মফিজ উদ্দিন ও খেতাব দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সম্প্রতি তারা এলাকায় ফিরে আসার খবর পেয়ে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এদের মধ্যে খেতাব এলাকায় কুখ্যাত রাজাকার হিসেবে পরিচিত এবং ১৯৭১ সালে চারঘাট থানা এবং সংলগ্ন এলাকায় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত। তাদের আদালতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হস্তান্তর করা হবে।
রাজশাহীতে মানবতাবিরোধী অপরাধ আইনে ১৭টি মামলা হয়। এসব মামলায় আসামি করা হয় ১৩২ জনকে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৫৩। পলাতক রয়েছে ২ জন। বাকিরা জামিনে ও একটি মামলায় সাজা হয়ে কারাগারে রয়েছে একজন।
