ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ইউনিসেফ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ব্যয় নির্বাহের প্রাথমিক অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দেয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমকে। এই গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য (২৫ জুন) রবিবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে একটি গোল-টেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রওশন আরা বেগম, অতিরিক্ত সচিব, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক জনাব আনজীর লিটন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এপিসির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) জনাব এসএম লতিফ। অনুষ্ঠানে গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত উপস্থাপন করেন ড. সায়মা হক বিদিশা, গবেষণা পরিচালক (সানেম)।
নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি ‘অ্যান্টি–ভালোয়েন্স এগেইনস্ট উইমেন অ্যান্ড দেয়ার চিলড্রেন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ২০২১ সালে ফেব্রুয়ারিতে একটি কার্যকর, টেকসই ও পরিমাপযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ।
এই কর্মসূচির আওতায় বর্তমানে, ১২০০টিরও বেশি চাইল্ড প্রোটেকশন কমিউনিটি হাব বাংলাদেশে এক কোটি ৬০ লাখেরও বেশিশিশু ও তাদের পরিচর্যাকারীকে নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এলিসাক্যালপোনা, ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাপক।
শিশু ও মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে ইউনিসেফ একবারে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত জাতীয় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে বাস্তবমুখী করার লক্ষ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নিয়ে ইউনিসেফ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের সহায়তায় এই কর্মসূচির ব্যয় সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানান শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা এবং ইউনিসেফে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ফোকাল পয়েন্ট রায়হানুল হক।
হাবের (সিপিসিএইচ) ব্যয় অনুযায়ী ‘এমওডব্লিউসিএ’ যদি সারা দেশে শিশু সুরক্ষা কমিউনিটি হাব (সিপিসিএইচ) চালিয়ে যেতে চায় তাহলে ‘মোকা’ বাজেট ২০২৪ সালের তুলনায় ০.৭২% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা ‘বাউ’ অনুযায়ী দেখলে দাড়ায় ০.৬৬ শতাংশ।
সিপিসিএইচ ও ডিসিএ খরচ অনুযায়ী, যদি এমওডব্লিউসিএ শিশু বিষয়ক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করে তবে এমওডব্লিউসিএ বাজেট হিসেবে ২০২৪ সালের বাজেটের তুলনায় ০.৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে যা ‘বাউ’ অনুযায়ী দেখলে দাড়ায় ০.৬৬ শতাংশ।
বিশ্লেষণ থেকে সিপিসিএইচ ও ডিসিএ অর্থায়নের জন্য, নিম্নলিখিত কয়েকটি বিকল্প পথ বিবেচনা করা যেতে পারে। সেগুলো হলোঃ- এডিপি সামঞ্জস্য করে অতিরিক্ত সংস্থান একত্রিত করা যেতে পারে; বাজেট ঘাটতি বাড়িয়ে অতিরিক্ত সম্পদ অর্থায়ন করা যেতে পারে; অতিরিক্ত সম্পদ এডিপি সমন্বয় এবং ঘাটতি বাড়ানোর মিশ্র নীতির মাধ্যমে একত্রিত করা যেতে পারে; অতিরিক্ত সম্পদের মাধ্যমে বৃহত্তর রাজস্ব উত্পাদন দ্বারা অর্থায়ন করা যেতে পারে এবং অতিরিক্ত সম্পদ ব্যয় পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে সঞ্চয় থেকে একত্রিত করা যেতে পারে।
