আজ বিশ্ব শ্বেতি দিবস। এই দিবসটি বাংলাদেশে পালিত না হলেও এ দেশে অসংখ্য শ্বেতি রোগী রয়েছে। এই শ্বেতি রোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা কুসংস্কার থাকলেও এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতার উদ্যোগ নেই। অথচ শ্বেতি কোনো ছোঁয়াচে রোগ বা কোনো অভিশাপ নয়। অন্যান্য অটোইম্যিউন ডিজিজের মত শ্বেতিও একটি রোগ। এখনও পর্যন্ত এই রোগের কোনো উন্নত চিকিত্সা বের হয়নি। তবে তিন ধরনের চিকিত্সার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে শ্বেতি অনেক সময় ভালো হয়। শ্বেতি হলে ত্বকের মেলানিন নষ্ট হয়ে ত্বক সাদা হয়ে যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে টপিক্যাল স্টেরয়েড ক্রিম, টেকরোলিমাস ক্রিমসহ অন্যান্য টপিক্যাল ওষুধ এবং সান ব্লাক ব্যবহার করে ত্বকে রিপিগমেন্টেশন বা ত্বকের রং স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
তবে অনেক ক্ষেত্রে শ্বেতি চিকিত্সা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া ফটো থেরাপি, লেজার ও সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্টও করা হয়। সবচেয়ে যে বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেওয়া দরকার তা হচ্ছে শ্বেতি নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
জনগণ, সমাজ, পরিবারের সদস্যদের শ্বেতি সম্পর্কে বুঝাতে হবে যে শ্বেতি কোন ছোঁয়াচে রোগ বা অভিশাপ নয়। শ্বেতি রোগীর সঙ্গে করমর্দন বা সংস্পর্শে আসলে কোনো ক্ষতি হয় না। এছাড়া শ্বেতি রোগ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি উন্নত চিকিত্সার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আর একটি কথা মনে রাখা দরকার, অন্যান্য অনেক ত্বকের রোগের মতোই শ্বেতি একটি স্বাভাবিক ত্বকের রোগ এবং এখনো পর্যাপ্ত কোনো উন্নত দেশের বিশেষজ্ঞগণ এমন দাবি করেননি যে শ্বেতি রোগের কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। তবে যেসব চিকিত্সা প্রচলিত রয়েছে তার সাহায্যে অনেক সময় শ্বেতি বা ভিটিলাইগো সম্ভব হয়। তবে কোনো গ্যারান্টি নেই। অনেকে দাবি করেন শ্বেতি ভালো হয়ে যায়। আমি এ সম্পর্কে কোনো বিতর্কে না গিয়ে রোগীদের বোঝানোর চেষ্টা করি বিশ্ববিখ্যাত পপ সুপার স্টার মাইকেল জ্যাকসন এবং উপমহাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চনেরও শ্বেতি আছে। যদি অর্থ ও চিকিত্সা দিয়ে শ্বেতি ভালো করা যেতো তাহলে এই দুই কিংবদন্তির শ্বেতি নিশ্চয় ভালো হতো। তবে আমি বলতে চেয়েছি শ্বেতি একেবারে ভালো হবে এমন সুনির্দিষ্ট চিকিত্সা নেই, তবে অনেক ক্ষেত্রে শ্বেতী ভালো হয়।
লেখক: চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মহাসচিব জাতীয় শ্বেতি ফাউন্ডেশন
