রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে আমরা সবাই রাজা

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৩, ১৬:৩৩

কালের পরিক্রমায়  গ্রীক শব্দ 'POLITIKI' বিবর্তিত হয়ে আজকের 'POLITICS' বা 'রাজনীতি' কথাটির সৃষ্টি। 'POLITIKI' যার অর্থ শহরের বিষয়াবলী বলা যেতে পারে। তৎকালীন গ্রীক সভ্যতায় শহরের লোকজনকে ঘিরেই রাজনীতির প্রচলন ও চর্চা শুরু হয়েছিল। কিন্তু রাজনীতি এখন আর শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনীতি ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি সমগ্র জীবনই একটি রাজনৈতিক বৃত্তে আবর্তিত হয়। এজন্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক Aristotle  বলেছেন “Man is by nature a political animal”.

রাজনীতিই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে। রাজনীতিবিদরাই সমাজ ও রাষ্ট্রের হাল ধরে। সৎ ও যোগ্য রাজনীতিবিদ দেশ ও জাতির উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। একজন মাঝি যেমন শক্ত হাতে নৌকার হাল ধরে ঝড়-ঝঞ্জা পেরিয়ে নৌকাকে নির্দিষ্ট বন্দরে নিয়ে যায়। তদ্রুপ জনদরদী , সৎ ও দক্ষ রাজনীতিবিদদের সুদক্ষ নেতৃত্বে জাতি খুঁজে পায় সঠিক পথের দিশা। পর্যাপ্ত ভূমি, কৃষি জমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও শুধুমাত্র উন্নয়নমুখী ও কল্যাণকর রাজনীতির কারণে একটি জাতি। যে উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ জাপান ও মালয়শিয়া। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণের সুকঠিন দায়িত্বটি রাজনীতিবিদরাই পালন করেন। আমলারা কেবলমাত্র সরকারের সহযোগী হয়ে তা বাস্তবায়ন করেন। 

অন্যদিকে অসৎ ও অযোগ্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব জাতির জন্য  অভিশাপ এবং একটি রাষ্ট্রের ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু ইদানিং অনেকেই অবজ্ঞা ভরে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের এড়িয়ে চলেন। কিন্তু তারা বেমালুম ভুলে যান, এই রাজনীতিবিমুখতা অপরাজনীতিকে উৎসাহিত করে এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের পথকে করে প্রশস্ত।রাজনীতিবিমুখ প্রজন্ম তৈরির একটা গোপন অথচ সুদূরপ্রসারী চিন্তা আছে বিশেষ একটি গোষ্ঠীর। এর মূল কারণ হলো সৎ ও যোগ্যদের সরিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ভোগের অপসংস্কৃতি সুনিশ্চিত  করা যায়, এমন পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু এবং স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সময়ে তার কন্যা শেখ হাসিনাসহ প্রথিতযশা অনেক রাজনীতিবিদ এই দুরভিসন্ধিমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন এবং এরই ধারাবাহিকতা 'মাইনাস ওয়ান', 'মাইনাস টু' প্রভৃতি ফর্মূলা। 

পৃথিবীতে সবকিছুই শিখতে হয়, জানতে হয় এবং নিয়মতান্ত্রিক ভাবে অনুশীলন করতে হয়। রাজনীতিও আকৈশর সচেতনভাবে মানসিক ও ব্যবহারিকভাবে অর্থাৎ বিশ্বাসে, কর্মে, আচরণে অনুশীলনের মাধ্যমে শিখতে হয়। একজন রাজনীতিবিদকে জনদরদে, জনপ্রিয়তায়, উপচিকির্ষার উপায় ও পন্থা উদ্ভাবনে মনোযোগী, দক্ষ, নিপুন, সুরুচিপূর্ণ, সময়সচেতন, দেশপ্রেমী ও মানবসেবী হতে হয়। রাজনীতি একটি শিল্প। অনেক পরিশ্রম, অধ্যবসায়, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে এই শিল্প সাধনা করতে হয়। একজন উচ্চশিক্ষিত খ্যতিমান ব্যাক্তিও ব্যর্থ হতে পারেন, জনসমর্থন অর্জনে। আবার একজন সাধারণ অখ্যাত ব্যাক্তিও স্বমহিমায় স্পর্শ করতে সক্ষম হন মানুষের হৃদয়।

রাজনীতি কখনো পেশা হতে পারেনা। রাজনীতি হওয়া উচিৎ মানুষ ও সমাজসেবার ব্রত।রাজনীতি বৃহত্তর পরিসরে মহত্তর কাজ। রাজনীতি হল ব্যক্তিস্বার্থ ভুলে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, দেশ তথা বিশ্বের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করা। রাজনীতিবিদদের থাকার কথা মানুষ হিসেবে উৎকর্ষের শীর্ষে, কারণ তারাই জাতির ভাগ্য নিয়ন্তা, দেশের নীতি নির্ধারক। সাধারণ মানুষের নৈতিক স্খলন অপরাধ । তবে রাজনীতিবিদদের নৈতিক স্খলন গুরু পাপ, কারণ তারা সাধারণ মানুষের কাছে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। তাই রাজনীতিবিদদের লঘু পাপে হয় গুরুদন্ড। অবাধ স্বাধীনতা ও উদার গণতন্ত্রের দেশ মার্কিন যু্ক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নৈতিক স্খলন জনিত কারণে দাড়াতে হয়েছে আসামীর কাঠগড়ায়। কারণ, তারা ছিলেন জনপ্রতিনিধি এবং রাষ্ট্রনায়কের গুরু দায়িত্ব তাদের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। সামান্য ভুলে একজন রাজনীতিবিদের সারা জীবন ধরে তিল তিল করে সঞ্চয় করা ভাবমূর্তির অপমৃত্যু ঘটতে পারে মুহূর্তেই। এক নিমিষেই একজন নেতা নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হতে পারেন। এজন্যই প্রেসিডেন্ট Winston Churchill বলেছেন, “ Politics is almost as exciting as war, and quite as dangerous. In war you can only be killed once, but in politics many  times ”
 
কবি রবার্ট ব্রাউনিং Patriot কবিতায় লিখেছেন: “Thus I entered, and thus I go! In  triumphs, people have dropped down dead"

“বাঙালি জাতি ছিল একটা প্রতিভাবান জনগোষ্ঠী। তবে তাদের মস্ত দোষ ছিল তারা চাকরি ছাড়া কিছুই বুঝত না। তেজারতি, ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকে তাদের খেয়াল ছিল না মোটেই। তারা চাঁদা তুলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ত। শেক্সপিয়ার-মিল্টন মুখস্থ করে বিএ-এমএ ডিগ্রি নিত। তারপর ত্রিশ টাকা মাইনের কেরানিগিরি পেত। তাও যদি নিতান্ত না জুটত তবে ওকালতির গাউন কাধে নিয়ে আদালতের বারান্দায় পায়চারি করত।” এটি আবুল মনসুর আহমেদের ‘সায়েন্টিফিক বিজনেস’ রচনার প্রথমাংশ । প্রায় ৮ দশক পূর্বে তিনি এটা রচনা করেছিলেন। বর্তমানে বাঙালির মনস্তত্ত্বে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। এখন আর কেউ চাঁদা তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন না। বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে চাঁদা তুলেন। শেক্সপিয়ার-মিল্টন না পড়লেও চলে, এর চেয়ে নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে ছবি তুলে গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়া যায়। কেরানিগিরির চেয়ে এখন নেতাগিরিই ঢের লাভজনক। 

রাজনীতি এখন ‘Give and Take' এ পরিনত হয়েছে, যার আরেক নাম ব্যবসা। স্বাধীনতার পর থেকে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের প্রভাব ও আধিপত্য ক্রমাগত বেড়েছে। জাতীয় সংসদে রাজনীতিকদের চেয়ে ব্যবসায়ীর সংখ্যা অনেক বেশী। রাজনীতির পাশাপাশি অনেক রাজনীতিক ব্যবসায় জড়িত। আসল বিষয় হল, দেশসেবার নামে রাজনীতিতে ঢুকে ব্যবসায়ীরা এবং ব্যবসায় ঢুকে রাজনীতিকরা উভয়েই কামিয়াব হচ্ছেন। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই  রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের মুঠোবন্দী হবে। 

এজন্য দার্শনিক Plato তার কালজয়ী  'Republic' গ্রন্থে, আদর্শ রাষ্ট্রে ব্যবসায়ীদের  রাজনীতি করার অধিকার রাখেন নি। প্লেটোর মতে, “যার যে কাজ তার সে কাজ করা উচিৎ”।

বিল গেটস, ওয়ারেন বাফেট, টাটা, ইলোন মাস্ক, জেফ বেজোসরা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েও রাজনীতির আঙ্গিনায় পা বাড়াননি। পেশাদারিত্ব ও সাফল্যের সঙ্গে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং নিজ দেশের ও পৃথিবীর সামগ্রিক  উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখছেন।

সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত পার্লামেন্ট ওয়াচঃ (১ম-৫ম অধিবেশন) শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদে প্রকৃত রাজনীতিবিদ মাত্র ৫ %। তাদের তথ্য অনুযায়ী সংসদে আইনজীবি ১৩%, অন্যান্য (শিক্ষক, চিকিৎসক,কৃষক, অবসরপ্রাপ্ত আমলা, সামরিক কর্মকর্তা ইত্যাদি) পেশার ২১% সদস্য রয়েছেন। ১৯৭৩ সালে সংসদে রাজনীতিবিদ ছিলেন ৮৫%। তবে ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর থেকেই সংসদে রাজনীতিবিদদের সংখ্যা কমতে শুরু করে। ১৯৯৬ সালে রাজনীতিবিদ সংসদ সদস্যের হার ছিল ৫২%, ২০০১ সালে ৪৯%, ২০০৮ সালে ৩৭%, এবং দশম জাতীয় সংসদে তা আরও হ্রাস পায়। 

কিছুদিন পূর্বে সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, “এখন রাজনীতি হচ্ছে গরিবের বাউছ (ভাবি)”, গরিবের ভাবির মত রাজনীতি সবার কাছে হয়েছে সহজলভ্য। রাজনীতিতে আসা ব্যবসায়ীরা রাজনীতিকে  নিজেদের ব্যবসার মার্কেটিং হিসাবে নিয়েছেন। আর সেই মার্কেটিং এর ব্যবস্থাপক হিসাবে আমলাতন্ত্র কাজ করছে। এখন ব্যবস্থাপকরা যদি যোগ্যতায় পরিচালকদের থেকে এগিয়ে থাকেন, যদি পরিচালকরা ব্যবস্থাপকদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তাহলে তো ব্যবস্থাপকদের কতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবেই। এখন সেটাই হচ্ছে। আর এর অন্যতম কারণ তৃণমূলের স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার  জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই  উপযুক্ত ও যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যর্থতা। 

ফরাসি ও গ্রীক ভাষার সংমিশ্রণে সৃষ্টি হওয়া আমলাতন্ত্র শব্দটি এত দ্রুতগতিতে পৃথিবীর পরতে পরতে ছড়িয়ে পড়বে তা কেউ ভাবতেও পারেনি। সমগ্র পৃথিবীব্যাপী রাষ্ট্র ও সরকারের অস্তিত্বের সঙ্গে আজ আমলাতন্ত্র অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। উনিশ শতকে জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ‘Max Webar’ সম্ভবত প্রথম আমলাতন্ত্র শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি আমলাতন্ত্রকে ইতিবাচক ধারায় বর্ণনা  করেছিলেন এবং আদর্শ আমলাতন্ত্রকে দক্ষ ও যৌক্তিক হিসাবে  বিবেচনায় নিয়েছিলেন। তার চিন্তায় আমলাতন্ত্র ছিল পুঁজিবাদের চাবিকাঠি, কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আমলাতন্ত্র প্রশাসনিক ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। বেসামরিক বা সামরিক যেকোন আমলাতন্ত্রের প্রভাবকেই কোন দেশের সরকারই অস্বীকার করতে পারবেনা। এভাবেই রাষ্ট্রপরিচালনায় রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিশ্বস্ত এবং  অনিবার্য সহযোগী হিসাবে আমলাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়। রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তনশীল হলেও আমলাতন্ত্র সর্বদা স্থায়ী। আর আমলাদের রাষ্ট্রক্ষমতার খায়েশ তো রীতিমত উদ্বেগজনক। 

একসময় দেশের বাম দল গুলোতে 'ফুলটাইমার রাজনীতিবিদ' ছিলেন। তারা পার্টি তথা দেশের জন্য সারাটা জীবন উৎসর্গ করতেন। পার্টির কাছ থেকে প্রাপ্ত ন্যূনতম অর্থই ছিল তাদের জীবনধারণের একমাত্র অবলম্বন। সেই স্বর্ণালী দিন এখন সুদূর অতীত। রাজনীতি এখন সবচেয়ে লাভজনক পেশা। জনগণ ভোট দিয়ে রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব দেন। কিন্তু দায়িত্ব পেয়েই অধিকাংশ রাজনীতিবিদ ক্ষমতার দাপটে ধরাকে সরা জ্ঞান করেন। অতীতে রাজনীতিবিদরা জনসেবা করতে করতে নিঃস্ব হয়ে যেতেন। শেরে বাংলা একে ফজলুল হক তার সমুদয় সম্পদ, এমনকি পৈতৃক ভিটাটুকুও চাখার কলেজে দান করেছিলেন। মজলুম  জননেতা মওলানা ভাসানী তালের টুপি আর তাতের লুঙ্গি পড়ে অনাড়ম্বর দরবেশ সুলভ জীবন যাপন করেছেন আমৃত্যু। বঙ্গবন্ধু বাড়ির গোলার ধান বিক্রি করে মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করতেন । আর এখন রাজনীতিবিদরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হন। রাজনীতি যেন 'আলাদিনের চেরাগ'।

সামরিক কর্মকর্তা ও আমলাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকা উচিত। সদিচ্ছা থাকলে রাজনীতির বাইরে থেকেও দানবীর হাজী মোহাম্মদ মহসিনের মত মানুষের সেবা করা যায়। রাজনীতিতে অংশ গ্রহণের যোগ্যতার মানদন্ড নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।রাজনীতিবিদদের অবসর গ্রহণের বয়স সীমা থাকা উচিত। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া অনেক নেতা কখনো দল ও দেশের জন্য বিব্রতকর হয়। যেমন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান অধ্যাপক  ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তাৎক্ষনিক কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন না। ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি  নির্বাচন ব্যবস্থাকে সংশোধন করার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে অনেকেই মনে করেন। একদিনের ভোটে জয়লাভ করে দীর্ঘ পাঁচ বছরের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতার লাইসেন্স পাওয়া কতটুকু যুক্তিসংগত? স্থানীয় সরকারের মেয়াদের সময়সীমা হ্রাস নিয়ে নতুন করে ভাবা উচিৎ।মাত্রাতিরিক্ত ক্ষমতা যেন কেউ কুক্ষিগত করতে না পারে এজন্য ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করা বাঞ্ছনীয়। সমাজতন্ত্র মানুষকে এখন আর অতীতের মত আকৃষ্ট করেনা। মাত্রাতিরিক্ত এবং ভুল গণতান্ত্রিক চর্চা কখনো কখনো উন্নয়ন ব্যাহত করে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হয়ে ওঠে হুমকি। উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতাকে ধরে রাখার জন্য  অনেক সময় নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র,  একনায়কতন্ত্র শাপেবর হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের স্মার্ট সময়ে দাড়িয়ে আগামী প্রজন্মের বৃহত্তর কল্যাণের জন্য সংবিধান, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন পদ্ধতি, ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থা, আমলাতন্ত্র, বিচার বিভাগ সহ সমগ্র রাষ্ট্র কাঠামোর সময়োপযোগী ও যৌক্তিক আমূল সংস্কার করার প্রয়োজন রয়েছে।  গত ১৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়  'World Economic Forum' এ বলেছেন “ স্মার্ট গভর্নেন্সের জন্য ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতাদের বিকাশের জন্য আমরা স্মার্ট লিডারশীপ একাডেমিও চালু করেছি”। এধরণের প্রতিষ্ঠান ইতিবাচক রাজনীতির জন্য সহায়ক। 

ড. আব্দুল ওয়াদুদ

আমরা নতুন করে বাঁচতে শিখি- পুরনো ও পশ্চাৎপদ ধ্যান-ধারনাকে পেছনে ফেলে নতুন আলোর পথে অগ্রসর হই। প্রগতির রাজনীতি, প্রগতির সংস্কৃতি চর্চা হোক শব্দময়, আলোকিত ও প্রকাশ্য। আজ গোটা দেশের যে অস্থির রাজনৈতিক আবহ তাতে এটুকুই চাওয়া। রাজনীতি হোক সুস্থ ধারার আদর্শ ও জন মনন চর্চার পাদপীঠ।

লেখক - ড. আব্দুল ওয়াদুদ
রাজনৈতিক বিশ্লেষক, ফিকামলি তত্ত্বের জনক, প্রেসিডিয়াম সদস্য- বঙ্গবন্ধু পরিষদ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক- বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞান সমিতি

ইত্তেফাক/এএইচপি