ক্রমাগতভাবে কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে রাশিয়া। এই চুক্তির সমাপ্তি হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলোকে। সোমবার জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এমন আশঙ্কার কথা বলেন। এমন হলে অঞ্চলটিতে খাদ্যের দাম আরো বাড়বে এবং অনাহারে থাকবেন আরো লাখ লাখ মানুষ।
হর্ন অব আফ্রিকার দেশগুলো হলো ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া, জিবুতি, কেনিয়া, সুদান ও দক্ষিণ সুদান। চলতি বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা পেলেও এখনো খাদ্যসংকটে রয়েছে অঞ্চলটির এই আটটি দেশের প্রায় ৬ কোটি মানুষ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডমিনিক ফেরেটি বলেন, ‘কৃষ্ণসাগরীয় চুক্তির মেয়াদ না বাড়ালে মারাত্মক প্রভাব পড়বে পূর্ব আফ্রিকার দেশগুলোতে।’ তিনি আরো বলেন, ‘অনেক দেশ ইউক্রেনের গমের ওপর নির্ভরশীল। চুক্তি শেষ হলে খাদ্যের দাম যথেষ্ট পরিমাণে বাড়বে।’ গত বছরের জুলাইয়ে তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কৃষ্ণসাগরীয় শস্য চুক্তিতে সই করে রাশিয়া। চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১৮ জুলাই পর্যন্ত। মস্কো বলছে, রুশ শস্য ও সার রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা থাকলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাবে ক্রেমলিন। গত তিন বছরে সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও কেনিয়ার প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার কর্মকর্তরা এ খবর জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে গোটা আফ্রিকার জন্য এটি বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনবে।
ইউক্রেনে আর্থিকসহায়তা বাড়াচ্ছে ইইউ : ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলো ইউক্রেনের সামরিক সহায়তা তহবিলে আরো ৩৫০ কোটি ইউরো (৩৮০ কোটি মার্কিন ডলার) যোগ করে মোট সহায়তার পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি ইউরোতে (প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার) উন্নীত করতে রাজি হয়েছে। ইইউ শান্তি সুবিধা (ইপিএফ) এরই মধ্যে ইউক্রেনের জন্য প্রায় ৪৫০ কোটি ইউরো বরাদ্দ দিয়েছে। ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোসেপ বোরেল বলেছেন, নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, সশস্ত্র বাহিনীকে শক্ত সামরিক সহায়তা দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল আমাদের রয়েছে। এটি ইইউ ও এর অংশীদারদের আরো শক্তিশালী করে তুলবে। অনেকে বলছেন, ওয়াগনার বাহিনীর বিদ্রোহ সামাল দেওয়ার পর বেশ চাপে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আর এ সুযোগেই যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা নেতারা ইউক্রেনকে যথাসম্ভব সবল করে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
গত শুক্রবার দীর্ঘদিনের মনোমালিন্যের পরিপ্রেক্ষিতে রুশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বসেন রাশিয়ার ভাড়াটে সৈন্য বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিন। তিনি অভিযোগ করেন, তার বাহিনীর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মস্কো। এর কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এর প্রতিক্রিয়ায় এমন ঘটনাকে ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’ উল্লেখ করে বিদ্রোহীদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপরই ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গ্রুপ ও এর প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সর্বশেষ অবস্থা হলো সেখানকার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে এবং ওয়াগনার প্রধানের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মামলাটিও প্রত্যাহার হয়।
