ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পবিত্র কোরআনে। বুধবার (২৮ জুন) সূর্যোদয়ের পর সকাল থেকে দুবাই-আবুদাবি-সারজাহ-আজমান-রাস আলখায়মা সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যান্য শহরসহ মধ্য প্রাচ্যজুড়ে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় শুরু হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসীরা আনন্দ উদ্দীপনা নিয়ে এ ঈদ উদযাপন শুরু করেছেন। এক সাথে মসজিদে-ঈদগাহে মুসল্লীদের নামাজ আর খুতবা শেষে হাসিমাখা মুখে কোলাকুলির দৃষ্টিজুড়ানো দৃশ্য সবার মনে আনন্দের ঢেউ তুলেছে। ফোনে ফোনে দূরের প্রিয় জনের সাথেও থেমে নেই এ খুশির হাসির আভা। যদিও বিদেশের মাটিতে রক্তের মায়া, প্রিয়জনের মায়া, আত্মীয়স্বজনের, দেশের আনন্দের মায়া ত্যাগ করে যে যেভাবে পারছেন নিজেদেরকে একটু খুশি রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। প্রবাসী শ্রমিকেরা যাদের সামর্থ্য রয়েছে তারা একসাথে মিলে পশু কোরবানি করছেন। আবার যাদের সামর্থ্য নেই তারা দোকান থেকে তাজা গোসত কিনে রান্না করে একসাথে খাওয়াদাওয়া করছেন। এই প্রবাসে যারা ফ্যামিলি নিয়ে থাকে তারা অনেকে ক্যাটল মার্কেট থেকে সরকারি নিয়ম মেনে উট, গরু, ছাগল, দুম্বা, ভেড়াসহ সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি দিচ্ছে, নিকটতম বা পরিচিতজনদের শ্রমিকদেরকে দাওয়াত করে খাওয়া দাওয়া আয়োজন করছেন। পশু কেনাকাটা যদিও দেশের মতো অত আড়ম্বরপূর্ণ থাকে না তবুও মিলেমিশে এখানকার সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মার্কেট থেকে হালাল, সুস্থ, কোরবানিযোগ্য সার্টিফিকেট নিয়ে সরকারি নিয়ম নীতি মেনে কেনাকাটা করেন।
ক্যাটল মার্কেটের এক শ্রমিক তার ভাষ্যে বলেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদশিরাই প্রবাসে পশু কোরবানি বেশি করে। তিনি বলেন, ‘আমি পঞ্চাশটি পশু বিক্রি করেছি তার মধ্যে পয়ত্রিশটিই ক্রয় করে নিয়ে গেলো বাংলাদেশের মানুষ’।
প্রবাসীরা বেশিরভাগই ঈদ উদযাপন করছেন এলাকার পরিচিত বা আত্মীয়স্বজন যারা এখানে থাকেন তাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এবার লম্বা ছুটি দিয়েছে সরকারি বেসরকারি মিলে ছয় দিনের মতো ছুটি ঘোষণা করে। এ ছুটি কাটাতে কেউবা নানান অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন, আবার কেউ কেউ দর্শনীয় স্থানে ঘুরছেন, কেউ আবার নিজের মতো করেও ঈদের এ ছুটির আনন্দ উপভোগ করছেন।

