কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পানিবন্দি হয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে বন্দরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ২৪ নম্বর ওয়ার্ড ও বন্দর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদমতলী মহল্লার ৫ হাজার পরিবার। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং মাছচাষিদের জলাশয় রক্ষায় কালভার্ট বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। আমিরাবাদ, কাইতাখালী, উত্তর নেয়াদ্দা, বক্তারকান্দি ও নেয়াদ্দা এলাকার মানুষ এবং বন্দর ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।
বৃষ্টি থামলেও পানি অপসারণের পথ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগের শিকার এলাকাবাসী। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, মাছচাষি প্রভাবশালী শাহনেওয়াজ, নাজির ও আনোয়ার তিনটি বড় কালভার্ট বন্ধ দেওয়ার ফলে পানি অপসারণ হতে পারছে না। এতে করে পাঁচ-ছয়টি মহল্লার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার। তাদের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য তারা মেয়র আইভীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
বেশ কয়েক জন ভুক্তভোগী জানান, অনেক বাড়িতে পানি জমে রয়েছে। অনেকে ঘরের মধ্যে মাচা তৈরি করে থাকছেন। ঘরের মালামাল ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, ‘এখানে বর্ষা মৌসুমের প্রয়োজন হয় না, বৃষ্টি শুরু হলেই পানি জমতে থাকে। বৃষ্টির পানি বের হওয়ার পথ নেই। গত এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাঘাটে বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে, এখানে কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান, মেম্বার কেউ আসেন না। আমরা অনেক বিপদে আছি, তারা দেখেন না। বাড়িঘর রেখে বাসা ভাড়া থাকতে হয়। এলাকায় প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’
এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেনকে মোবাইল ফোনে চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার ইয়াকুব জানান, ‘আমার কাছে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। ঈদের দিনও এলাকা থেকে লোকজন আসছে, তারাও কিছু বলেনি। চেয়ারম্যান হজে গেছেন।
তিনি দেশে ফিরলে এ বিষয়ে কথা বলে সমাধান করব।’ এদিকে পানি নিষ্কাশনের জন্য নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম সেলিম ওসমানের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন কদমতলী এলাকাবাসী।
