বলাৎকারের অভিযোগ মানেই অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক!

আপডেট : ০৯ মে ২০২৪, ১৭:৫২

বাংলায় 'বলাৎকার' লিখে গুগলে সার্চ করলেই ভেসে উঠবে অসংখ্য সংবাদ। প্রায় প্রতিটি খবরের শিরোনামেই দেখা মেলে ভুক্তভোগীরা মাদরাসা শিক্ষার্থী, অভিযুক্ত তাদেরই শিক্ষক। এরমধ্যে সিরিয়াল বলাৎকারের ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। ২০২৩ সালের অক্টোবরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ১৯ শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ ওঠে আব্দুল আউয়াল নামে এক মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। চলতি বছরের শুরুতে নোয়াখালীর চাটখিলে চার ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

হাতীবান্ধার ওই ঘটনায় অভিযুক্ত আব্দুল আউয়াল উপজেলার পশ্চিম সারডুবি গ্রামের দারুল উলুম রওজাতুস সুন্নাহ নূরানী তা'লীমুল কোরআন হাফিজিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক। অভিযোগে জানা যায়, মাদরাসাটির প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল তার ডিউটির রাতের শেষে সকালে পছন্দমতো ছাত্রকে তার রুমে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করতেন এবং তা কাউকে না বলার হুমকি দিতেন। একে একে ১৯ জন শিক্ষার্থী তার বলৎকারের শিকার হলে নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে কানাঘুষা থেকে তা প্রকাশ পায়। এ ঘটনায় অভিভাবকরা গেলে কৌশলে পালিয়ে যান প্রধান শিক্ষক আব্দুল আউয়াল। পরে অভিভাকরা সম্মিলিতভাবে অভিযুক্ত আব্দুলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

দেশের কওমি ও মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থার ভেতর লুকিয়ে থাকা বলাৎকার নামক পশুবৃত্তি ক্রমেই প্রকাশিত হচ্ছে। অনেকেই তাদের সন্তানকে আর মাদরাসার মতো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিতে সাহস পাচ্ছেন না এই ভয়ে। এমনকি বলাৎকার আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় এই অপরাধকে ধর্ষণের মতোই সাজার বিধান করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ‘নারী ধর্ষণ’-এর অপরাধের পাশাপাশি ‘পুরুষ বলাৎকার’-কে অপরাধ হিসেবে যুক্ত ও এই ধারার সংশোধন চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয় ২০২১ সালে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী তাসমিয়া নূহাইয়া আহমেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের শিক্ষক ড. মাসুম বিল্লাহ এবং সমাজকর্মী ড. সৌমেন ভৌমিক এ রিট করেন। রিটে আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের আইজিকে বিবাদী করা হয়।

রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল বলেন, সম্প্রতি দেশে ছেলে শিশু তথা পুরুষকে যৌন নির্যাতন ও বলৎকারের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিন্তু এই ধরনের নির্যাতনকে ধর্ষণের অপরাধ হিসেবে বিচার করা যাচ্ছে না। পরে ‘নারী ধর্ষণ’ অপরাধের পাশাপাশি বলাৎকারকে ‘পুরুষ ধর্ষণ’ অপরাধ হিসেবে যুক্ত করতে দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা সংশোধনের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট।

২০১৯ সালের একটি ঘটনায় শিউরে উঠেছিল পুরো দেশ। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দুর্বৃত্তের হাতে নিহত মাদ্রাসাছাত্র আবির হোসাইনের (১১) বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুবুর রহমান বলেন, ময়নাতদন্তের পর জানা গেছে যে শিশুটিকে হত্যার আগে বলাৎকার করা হয়। তাকে দীর্ঘদিন ধরেই পাশবিক নির্যাতন করা হতো। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার মোহতামিম আবু হানিফসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে কেউ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেনি।

এমন অসংখ্য বলাৎকারের ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে পড়ছে মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা। আইনগত কিংবা আদর্শগতভাবে এই সমস্যার সমাধান নাহলে অচিরেই আরও বির্তকের মুখে পড়তে হবে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে।

.