কালের বিবর্তনে কোষা, বজরা, গয়না নৌকার সঙ্গে বড় বড় পণ্যবাহী নৌকার বিলুপ্ত ঘটলেও সিরাজগঞ্জের কৈজুরীতে ডিঙি নৌকার হাট এখনও টিকে আছে।
বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি না হলেও সিরাজগঞ্জের জমে উঠেছে ডিঙি নৌকার হাট। আষাঢ়-শ্রাবণ দু’মাস বর্ষাকাল হলেও জেলার নদীপাড়ের মানুষের বর্ষার পরেও অনেক দিন নৌকায় চলাফেরা করতে হয়। যমুনা, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসাগর, চলন বিল আর গোহালা নদীর মতো বেশ কটি নদী জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহমান থাকায় অনেক আগে থেকেই কৈজুরী, রতনকান্দি, নাটুয়া পাড়াসহ বিভিন্ন নৌকার হাট বসে আসছে।
শাহজাদপুর উপজেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার পূর্ব দিকে যমুনা নদীর তীরে কৈজুরীতে নৌকার পসরা সাজিয়ে হাট বসছে এখনও। কৈজুরীতে সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার হাট বসলেও নৌকার হাট বসে শুক্রবার।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক পথে ও নদীপথে হাটে বিক্রির জন্য শতাধিক ডিঙি নৌকা আনা হয়েছে। পাবনার বেড়া ও গোবিন্দপুর এবং সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী, চরকৈজুরী, পাঁচিল, দুগালী, বর্ণিয়া, জামিরতা, গুদিবাড়ি, বেনোটিয়া থেকে বহু মহাজন ডিঙি নৌকা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন।
নৌকার কারিগর নাটুয়াপাড়ার আফজাল হোসেন, গুদিবাড়ি হামিদ জানান, বর্ষা এলেই এ অঞ্চলে নৌকার চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর অন্য কাজ করলেও এসময় তারা শুধু নৌকাই তৈরি করেন। বছরের তিন থেকে চার মাস তাদের এ ব্যস্ততা থাকে। এখন দিন-রাত নৌকা তৈরিতেই সময় কাটছে তাদের।
কারিগরিরা জানান, ডিঙ্গি ও কোষাসহ বিভিন্ন ধরনের নৌকা তৈরিতে তারা জামরুল, কড়ই, আম, কদম ও শিমুল গাছের কাঠ ব্যবহার করেন। ৯ ফুট থেকে শুরু করে ১৫ পর্যন্ত লম্বা নৌকা তৈরি করা হয়। কাঠ ও আকার ভেদে নৌকার দামও বিভিন্ন।
নৌকা বিক্রেতা আলতাফ হোসেন, হোসেন আলী জানান, নৌকা বিক্রির ব্যবসা বহুকাল আগে থেকেই করে আসছেন। বাড়িতেই তাদের কারখানা রয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগ থেকেই কিশোর বয়সে বাবার সঙ্গে নৌকা বিক্রি করতে তিনি কৈজুরী হাটে আসতেন। তখন ১২ হাত লম্বা একটি ডিঙি নৌকা ৬শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকায় বিক্রি হতো। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে পাঁচ হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায়।
নদীপথ বর্ষার পর কমে যাওয়ায় শুধু বর্ষা মৌসুমে নৌকা বিক্রি ভালো হলেও বছরের অন্য সময় ব্যবসা টিকে রাখা কঠিন হয়ে পরে বলে অনেক ব্যবাসায়ীর অভিযোগ।
কৌজুরী হাটে নৌকা কিনতে আসা আব্দুল বারেক জানান, গত বছরের তুলনায় এবার নৌকার দাম ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা বাড়তি।
নৌকা বিক্রেতারা জানান, কাঠের দাম বৃদ্ধির কারণেই নৌকার দাম একটু বেড়েছে।
