এ ক ধা প এ গি য়ে

আত্মবিশ্বাসই অদম্য শক্তি

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ১৯:৫৬

অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও নিজের প্রতি প্রবল আত্মবিশ্বাস যে কোনো মানুষকে সফলতা এনে দিতে পারে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা যিনি প্রতিটি মুহূর্তে লালন করেন ও এর জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করেন তিনি একদিন না একদিন সফল হবেনই। আমাদের সমাজে একজন সুস্থ সবল মানুষ যেভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পান তারচেয়ে অনেক কম সুযোগ পান একজন শারীরিকভাবে বাধাগ্রস্ত মানুষ। আর সে যদি হয় নারী তখন তার জন্য হয়ে ওঠে আরো কঠিন কাজ। সমাজের নানা কুসংস্কার আর বাধা পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা ইসরাত জাহান কিন্তু এ কঠিন কাজটি নানা প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে চলছেন দ্রুত গতিতে। তাঁর জীবন সংগ্রামের গল্প জানাচ্ছেন— মো. মিজানুর রহমান

 

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের চাঁদপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসাশিক্ষক ফারুক আহাম্মদের বড় মেয়ে ইসরাত জাহান। তার বড় এক ভাই ও ছোট এক বোন আছে। ১৯৯৪ সালের ২ জানুয়ারি সে জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের ৬ মাস পর তার জ্বর হয়। তারপর তার ডান পায়ে সমস্যা দেখা দেয়। বহু চিকিত্সা করার পরও তার ডান পায়ের সমস্যা কাটেনি। তার পায়ের চিকিত্সা করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। করতে হবে বড় ধরনের অপারেশন। এত টাকা সংগ্রহ করা তার পরিবারের পক্ষে অসম্ভব। বেশি হাঁটাচলা করলে তার পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা হয়।

কিন্তু প্রবল আত্মবিশ্বাসের জোরে ও মা পারভীন আক্তারের সহযোগিতায় সে ২০০৯ সালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁদপুর জনতা হাই স্কুল থেকে এসএসসি, ২০১৩ সালে বিজয়পুর মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি, ২০১৭ সালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে রাষ্ট্রজ্ঞািনে অনার্স পাস করেছেন। বর্তমানে তিনি মাস্টার্সে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে অধ্যয়নরত। এছাড়াও ইসরাত জাহান কোটবাড়ি শহীদ স্মৃতি প্যারামেডিক্যাল থেকে ১ বছরের কোর্স সম্পন্ন করেছেন। তার মা পারভীন আক্তার প্রতিবন্ধী মেয়ের ভবিষ্যত্ চিন্তায় প্রতিনিয়ত চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। তিনি তার মেয়ের চাকরির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।