তরুণদের নিয়ে ‘ক্লিন এয়ার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক কর্মশালা

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৩, ১৪:২৩

সারাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণে দ্য আর্থ সোসাইটি'র উদ্যোগে এবং ন্যাশনাল ইয়ুথ প্লাটফর্ম 'ইয়ুথ ফর কেয়ার' প্লাটফর্মের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্লিন এয়ার অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি ফর বাংলাদেশ বিষয়ক কর্মশালা। দুইদিনব্যাপী কর্মশালার প্রথম দিনে  শুক্রবার (১৪ই জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ এনার্জিতে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

ন্যাশনাল প্লাটফর্ম 'ইয়ুথ ফর কেয়ার' এই উদ্যোগে পার্টনার হিসেবে আছেন- ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশন, উই ক্যান কক্সবাজার, ইয়ুথনেট ও গ্রীন সেভারস। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মেডিকেল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন জেলার যুব প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। 

এর আগে ২০২২ সালে ২টি ধাপে ১০০ যুবককে ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে প্লাটফর্মটি। এছাড়াও ২২টি জেলার প্রায় ৫ হাজার যুবকদের বিভিন্ন কার্যক্রম- সাইকেল র‍্যালী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সিগনেচার ক্যাম্পেইন, সচেতনমূলক নাটক, মানববন্ধন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গকে সংযুক্ত করে আলোচনা সভা সহ নানান বিষয়কে ঘিরে ক্লিন এয়ার এন্ড রিনিউয়েবল এনার্জি বাস্তবায়নে কাজ করছে প্লাটফর্মটি। 

এই প্লাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য- বিভিন্ন যুব সংগঠনকে একত্রিত করে অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করা। এতে করে বাংলাদেশ সরকারকে 'ক্লিন এয়ার অ্যাক্ট' এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝানোর জন্য একটি প্রচারণা এবং অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে প্লাটফর্মটি। মূলত নীতিনির্ধারকদের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করার জন্য সর্বপ্রথম জনসাধারনের মাঝে সচেতনতা এবং জনমত তৈরি করা প্রয়োজন। বায়ু দূষণ, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রচারাভিযান   ও  অ্যাডভোকেসি সম্পর্কে যুব গোষ্ঠীর বোঝাপড়া, জ্ঞান এবং দক্ষতা উন্নত করার জন্যই জাতীয় যুব প্ল্যাটফর্ম 'ইয়ুথ ফর কেয়ার'। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সংস্থা, একাডেমিক ইন্সটিটিউট এবং গবেষণা সংস্থাগুলির সাথে কাজ করবে এই প্লাটফর্ম৷

ক্লিন এয়ার এবং নবায়নযোগ্য শক্তির উপর ২০২৩ সালে ৪টি ধাপে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ২০০ যুব প্রশিক্ষণার্থী  দুইদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। 

আজ থেকে শুরু হওয়া প্রথম ধাপের কর্মশালায় ৫০ জন যুব প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। দ্বিতীয় ধাপের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আগামী ২৮ ও ২৯ জুলাই  ২০২৩ইং তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ৩য় ধাপের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আগামী ১৮ ও ১৯ আগস্ট ২০২৩ইং ও ৪র্থ ধাপের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ইং।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশ,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ এনার্জি, দ্য  আর্থ সোসাইটি এবং বাংলাদেশ সোলার এনার্জি সোসাইটি যৌথভাবে আয়োজন করে।

দুইদিনব্যাপী আয়োজিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট  অব এনার্জির সহযোগী অধ্যাপক ও প্রশিক্ষণের প্রধান সমন্বয়কারী ড. এস.এম. নাসিফ শামস এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও  ক্লাইমেট পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অনারি প্রফেসর ড. বদরুল ইমাম ও এনার্জি এন্ড পাওয়ার এর এডিটর মোল্লাহ এম আমজাদ হোসেন। 

প্রশিক্ষণ কর্মশালা সমন্বয় করেন দ্য আর্থ সোসাইটির প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ইয়ুথ এন্ড ক্লাইমেট) মোসলেহ উদ্দিন সূচক ও সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনার্জির প্রভাষক ড. হিমাংশু রঞ্জন ঘোষ।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে 'রিনিউয়েবল এনার্জি বিজনেস অপরচুনিটি' বিষয়ক সেশন পরিচালনা করেন এনার্জি এন্ড পাওয়ার এর এডিটর মোল্লাহ এম আমজাদ হোসেন। 'ইউটিলাইজিং ক্লিন এনার্জি টেকনোলজিস এন্ড গ্রীণ হাউজ গ্যাস মিটিগেশন অপরচুনিটি' বিষয়ক সেশন পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ড. হিমাংশু রঞ্জন ঘোষ। 'ক্লিন এনার্জি টেকনোলজিস: ড্রাইভিং এনার্জি টেকনোলজি ইনোভেশন' বিষয়ক সেশন পরিচালনা করেন ইনস্টিটিউট অব এনার্জির পরিচালক অধ্যাপক ড. এস.এম. নাসিফ শামস। 'এয়ার কোয়ালিটি মেজারমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং’ বিষয়ক সেশন পরিচালনা করেন বিসিএসআইআর এর সিনিয়র সাইনটিস্ট ড. এস এম আসাদুজ্জামান সুজন। 

দুইদিনব্যাপী কর্মশালায় প্রশিক্ষার্ণীরা তাদের পরিকল্পনা জমা দেন। আগামীতেও এই উদ্যোগ গুলো নিয়ে কাজ করবে ন্যানশাল প্লাটফর্ম 'ইয়ুথ ফর কেয়ার।

এই কর্মশালার মাধ্যমে যুবরা বায়ু দূষণের কারণ, প্রভাব এবং বায়ু দূষণ কমানোর সম্ভাব্য উপায়, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং ইয়ুথ এডভোকেসি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি যুবরা যেন বায়ু দূষণের কারণ, প্রভাব ও বায়ু দূষণ কমানোর সম্ভাব্য উপায় এবং নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পর্কে প্রচারণা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বিকাশ করতে পারে সে বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। সর্বোপুরি সমস্যার সমাধানমুখী নীতিগুলির পক্ষে সমর্থন আদায় করতে পারে যুবরা ৷ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করে বায়ু দূষণ সীমিত করার জন্য জাতীয় নীতি-নির্ধারকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করার জন্য তরুণদের কণ্ঠস্বর জোরদার করতে এই পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে দ্য আর্থ সোসাইটি।

.