প্রায় ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ খেলতে নেমে নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে জড়তা ছিল বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের। বৃহস্পতিবার নেপালের বিপক্ষে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ দল খেলার শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে ড্র নিয়ে ঘরে ফেরেন সাবিনা খাতুনরা। প্রথম ম্যাচ বলে খেলোয়াড়দের জড়তা ছিল, আত্মবিশ্বাস কম ছিল। কথাগুলো ভারপ্রাপ্ত কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুর।
ছোটনের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়ে প্রথম ম্যাচটা উতরে গেছেন। কিন্তু খুব বেশি আত্মহারা হওয়ার সুযোগ নেই। লিটু বলছিলেন অনেক দিন পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামলে জড়তা থাকে।’ সেটা লিটুর চোখে পড়েছে। মাঝমাঠে মনিকা, মারিয়া ছন্দ খুঁজে পাননি।
সাফের রানার্সআপ নেপাল যেখানে ভারত ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে খেলে আত্মবিশ্বাস চাঙ্গা করেছে। সেখানে বাংলাদেশ দল আন্তর্জাতিক ম্যাচই পায়নি। অনেক দিন একটা দল পড়ে থাকলে যা হয়। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরও একাধিক ম্যাচ খেলেছে। সেটা কি কোনো কারণ ছাড়াই, তা কিন্তু নয়। ফুটবল দলকে সব সময় একটা ধারাবাহিকতার মধ্যে চলতে হয়।
নেপালের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচ খেলে প্রাপ্তির খাতায় কি লিখলেন কোচ লিটু ? ‘প্রথম কথা হচ্ছে ফুটবলাররা জড়তা কাটিয়েছে। দ্বিতীয় হচ্ছে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে। এই দুটি জিনিস খুব দরকার ছিল।’
বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল এখন অনেকটাই শক্তিহীন হয়ে গেছে। বিশেষ করে আক্রমণভাগে দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী স্ট্রাইকার সিরাত জাহান স্বপ্না ফুটবল ছেড়ে দিয়েছেন। রক্ষণে নির্ভরশীল সুঠামদেহের ডিফেন্ডার, উপমহাদেশের ফুটবলের আক্রমণভাগে যিনি সমীহ আদায় করেছেন, সেই আঁখি খাতুন ফুটবল ছেড়ে দিয়েছেন। খুব সহজে বা চট করে এই দুই পজিশন ভরাট করা সম্ভব না। ওরা যেমন এক দিনে তৈরি হয়নি। তেমনি এক রাতেও শূন্যস্থান ভরে ফেলাও যাবে না।
জুনিয়র শামসুন্নাহার ডেঙ্গু জ্বর কাটিয়ে এখন বাড়িতে বিশ্রামে। এই ফুটবলার না থাকাটাও একটা ক্ষতি। কোচ লিটু সেটাই তুলে আনলেন। শামসুন নাহার হচ্ছে ফাইটার। আক্রমণে সে ক্ষুরধার। দেখতে ছোট হলেও ধারালো তলোয়ারের মতোই তেড়েফুড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঢুকে যেতে পারেন।
এখন জাতীয় দলে নতুন কিছু ফুটবলার নেওয়া হয়েছে। সুমাইয়া, আফিদা খন্দকার প্রান্তি, শাহেদা আক্তার রিপা দলে ঢুকেছেন। আরো একাধিক ফুটবলার নেওয়া হয়েছে নেপালের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজ খেলার জন্য। লিটু বলছেন, ‘এখনকার দলটা তরুণ এবং সিনিয়র মিশেলে গড়া। বন্ডিং করতে সময় লাগবে।’
‘ডিফেন্ডার আঁখির জায়গায় প্রান্তি খেললেন। স্ট্রাইকার স্বপ্নার জমিতে তহুরা খেললেন। খুব খারাপ কি হচ্ছে। কাজ চালিয়ে নেওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে প্রান্তির খেলা দেখে কি মনে হয়েছে যে, আঁখি নেই। শাহেদা আক্তার রিপা যেভাবে পাসটা দিয়ে সাবিনাকে গোল করিয়েছেন তা কি সহজেই মুছে দেওয়ার মতো, কখনোই না’-বললেন লিটু।
নেপালের বিপক্ষে সাবিনার গোলে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের জালে গোল করে ম্যাচ বাঁচিয়েছেন সাবিত্রী ভান্ডারি। সাফের ফাইনালে ঘরের মাঠে খেলতে পারেননি সাবিত্রী ভান্ডারি। লিটু কাল বললেন, ‘সাবিত্রী নেপালের জার্সি গায়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফাইনালে খেলেছিল। খেলেনি কথাটা ঠিক না। হাফ টাইমে খেলতে নেমেছিল। গোল করেছে আরেকটা সুযোগ নষ্ট করেছে, গোল হয়ে গেলে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটা ২-২ গোলে ড্রয়ের দিকে চলে যেত।’
তারপরও কোচ লিটু এই সাবিত্রীকে সব কৃতিত্ব দিতে রাজি না। সাবিত্রী ভারতের মহিলা ফুটবলে খেলে ৩৬ গোল করেছেন। লিটু দেখেছেন নেপালের ৮ নম্বর জার্সি গায়ে খেলা সারু লিম্বু, ৯ নম্বর জার্সি গায়ে সাবিত্রী ভান্ডারি, ১৪ নম্বর জার্সি গায়ে প্রীতি রায়, ১৫ নম্বর জার্সি গায়ে আনিতা আক্রমণভাগের মূল শক্তি। ওরাই খেলাটা ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এই খেলাটা থামিয়ে দিতে সাবিনাদের জন্য প্রথম দরকার আগের ফুটবল মেজাজ, জড়তা কাটিয়ে উঠা এবং আত্মবিশ্বাস। এই সবগুলোই কাটিয়ে উঠতে পেরেছি। এখন জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছি না আমরা।’
সবকিছু কতোটা গুছিয়ে নেপালকে মোকাবিলা করতে পারবে সেটা এখন দেখার অপেক্ষা। ফিফা টায়ার-১ দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ লড়াইয়ে বাংলাদেশ-নেপাল মুখোমুখি হবে কমলাপুর স্টেডিয়ামে, বিকাল সাড়ে ৫টায়।
