অনেক বেসরকারি স্কুলে তালা

**জাতীয়করণের দাবিতে কঠোর অবস্থানে শিক্ষকরা **চলছে লাগাতার ক্লাস বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট : ১৭ জুলাই ২০২৩, ০৮:০০

বর্তমান সরকারের শেষ সময়ে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির (বিটিএ) ব্যানারে গত মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষকেরা। জাতীয়করণের দাবিতে সারা দেশের অনেক শিক্ষক বিক্ষিপ্তভাবে তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এই লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ক্লাস বর্জন কর্মসূচিও পালন করছেন তারা। ফলে অনেক বেসরকারি স্কুলে তালা ঝুলছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস বর্জন ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

গতকাল রবিবার দেখা যায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন হাজার হাজার শিক্ষক। তাদের অবস্থান কর্মসূচির কারণে পল্টন মোড় থেকে কদম ফোয়ারার দিকের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এক লেনে দুইমুখী গাড়ির চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে যানজট। বিটিএ নেতৃবৃন্দ বলছেন, শিক্ষকেরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচিতে থাকবেন। অন্যান্য শিক্ষক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল ঢাকা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, রংপুর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, নোয়াখালী, পাবনা, কুমিল্লা, কক্সবাজার, বরিশালসহ দেশের প্রায় সব জেলার স্কুলে শিক্ষকেরা তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করছেন।

শিক্ষকেরা জানান, এমপিওভুক্ত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকেরা মাত্র ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়িভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। একই কারিকুলামে একই সিলেবাসে পাঠদান করিয়েও সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনে রয়েছে বিস্তর পার্থক্য। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের থেকে এক ধাপ নিচে বেতন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাওয়ার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা স্মার্ট করতে প্রয়োজন স্মার্ট শিক্ষক। তাই স্মার্ট শিক্ষক পেতে শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণের বিকল্প নেই। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা সরকারিকরণ করতে সরকারের খুব বেশি অর্থ ব্যয় করতে হবে না বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এক দফা দাবি—মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলবে। আমরা দাবি আদায় করেই ক্লাসে ফিরব।’

এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছে ৯টি সংগঠন। সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস), বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (প্রিন্স), বাংলাদেশ শিক্ষক ইউনিয়ন, বেসরকারি শিক্ষক ফোরাম (সাইদুল), বেসরকারি শিক্ষক ফোরাম (মাইনুদ্দিন), ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রধান শিক্ষক পরিষদ ও জাতীয়করণ প্রত্যাশী মহাজোট।

ইত্তেফাক/এমএএম