ঋতুস্রাব সম্পর্কে যথাযথ ধারনার অভাব এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক গ্রামীণ নারী প্রেজনন প্রণালীর সংক্রমণে ভুগে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একদিকে অসচেতনতা ও অন্যদিকে পণ্যে উচ্চমূল্যের কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ শতাংশ নারী ঋতুস্রাবের সময় স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে নানা স্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে পড়েন তারা।
নারীদের মৌলিক ব্যবহারিক এই পণ্য (স্যানিটারি ন্যাপকিন) সহজ প্রাপ্যতার সুযোগ সৃষ্টি করে প্রান্তিক নারীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কক্সবাজারে ১৬ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল কক্সবাজার চ্যাপ্টারের অর্থায়নে ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা মহিলা এবং শিশু উন্নয়ন সংস্থা এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
নারীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা ও তাদের স্বাবলম্বী করার প্রয়াশ থেকে 'সুরক্ষায় স্বাধীনতা' শীর্ষক স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরি ও বাজারজাতকরণে ৩০ জন নারী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ পরিচালনায় ছিল উইমেন উইন্ডোজ নামক একটি সংস্থা। প্রশিক্ষণের শেষ দিনে (জুলাই ১৮) সকলের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেসিআই কক্সবাজারের প্রেসিডেন্ট শেখ আশিকুজ্জামান, সেক্রেটারি জেনারেল জিশান মনোয়ার, ডিরেক্টর ফারাহ তাসনিম রিসা, জেনারেল লিগ্যাল কাউন্সেল আমজাদ মাহমুদ ও ট্রেনিং কমিশনার ফয়সাল সিদ্দিকী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি মনোয়ারা পারভিন এবং উইম্যান্স উইন্ডোসের সভাপতি এন. আর. মুশফিকা লাইজু।
শেখ আশিকুজ্জামান বলেন, সমাজের উন্নয়নে জেসিআই সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই প্রকল্পটিতে অংশিদার হয়েছে জেসিআই কক্সবাজার।
নারীদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষা এবং তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার প্রয়াস থেকেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণার্থীরা স্যানিটারি ন্যাপকিন নিয়ে সচেতন হবেন; নিজেরা ও পরিচিতদের এর ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করবেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণে প্রদত্ত ধারণা এবং ব্যবহারিক জ্ঞ্যান দিয়ে তারা স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন এবং বাজারজাত করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
