বাবার স্বপ্নপূরণে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৩, ১৯:১৩

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ছমির মোল্লা। তার অনেক দিনের ইচ্ছে ছেলে ইউসুফ মোল্লাকে (২৬) হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে দিতে নিয়ে যাবেন। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে করলেন ছেলে।

বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের রাজধরপুর গ্রামে হেলিকপ্টারযোগে বিয়ে করতে যান ইউসুফ।

প্রথমেই রামদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আসেন গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়ার গাড়িতে করে। ঘোড়ার গাড়ি থেকে নেমে হেলিকপ্টার করে কনের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে আবার হেলিকপ্টারযোগে কনে সামিয়া আক্তারকে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন।

জানা যায়, ইউসুফ দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ সৌদি প্রবাসী। মূলত ব্যবসায়ী বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই তার এই ব্যতিক্রম আয়োজন। রাজধরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে সামিয়া আক্তারকে বিয়ে করতেই এই আয়োজন। নিজ বাড়ি থেকে কনের বাড়ির দূরত্ব ছিল মাত্র ১৫ কিলোমিটার।

তবে বাবার ইচ্ছা পূরণে তাকে গুনতে হয়েছে মোটা অংকের টাকা। ঘণ্টাপ্রতি ১ লাখ ৫ হাজার টাকায় সাড়ে ৩ ঘণ্টার জন্য ঢাকা থেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারটি ভাড়া করা হয়। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি ছিল মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল।

এদিকে, হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ের বিষয়টি এলাকাতেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়েকে ঘিরে  এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তারা সপ্তাহ ধরেই অপেক্ষা করছিলেন এই দিনটির জন্য।

বরের আত্মীয় সাহিদুল ইসলাম বলেন, এক সময়ে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছিল পালকিতে বিয়ে। কালক্রমে তা হারিয়ে গিয়ে এখন সাধারণত প্রাইভেটকার, বাসসহ অন্যান্য যানবাহনে বরযাত্রী আসা-যাওয়া করে। এই প্রথম আমি দেখলাম যে জামাই হেলিকপ্টারে চড়ে বিয়ে বাড়িতে গেলো। এমন শখ খুব কম মানুষেরই আছে।

বরের বাবা ছমির মোল্লা বলেন, ছেলেকে ছোটবেলায় বলেছিলাম তোমার বিয়েতে হেলিকপ্টার নিয়ে যাব। সেই আশা আজ পূরণ হলো। হেলিকপ্টারের পাশাপাশি ঢাকা থেকে ঘোড়ার গাড়িও এনেছি। খুব ভালো লাগছে আজ ইচ্ছেটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। সকল আইনগত নিয়ম কানুন মেনে আমি এই আয়োজন করেছি।

বর ইউসুফ মোল্লা বলেন, বাবার ইচ্ছা ছিল আমাকে হেলিকপ্টারে নিয়ে গিয়ে বিয়ে দিবে। সেই ইচ্ছাটা আল্লাহ পূরণ করেছে। হেলিকপ্টারে বিয়ে করতে যাওয়ার অনুভূতিটা দারুণ। আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া করবেন।

 

 

 

 

 

 

ইত্তেফাক/এবি