গত মে মাসে মহিলা ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেন গোলাম রাব্বানী ছোটন। দেড় মাসের বেশি হয়ে গেলেও নতুন কোচের সন্ধান করতে পারছিলো না বাফুফে। অবশেষে দেশি কোচ সাইফুল বারি টিটুকে মহিলা দলের প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বাফুফে। সাইফুল বারি টিটু গতকাল বাফুফে ভবনে গিয়ে সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। আগেও কথা বলেছেন টিটু। গতকাল আলোচনা ফাইনাল হয়েছে।
আগামী এশিয়ান গেমস ফুটবলে মহিলা দলকে নিয়ে চীনে যাবেন টিটু। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর চীনের হাংজুতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমসের ১৯তম আসর।
টিটু জানিয়েছেন, ‘আমি এখন কোনো কাজে নেই। অবসর সময় কাটাচ্ছি। কাজ করতে পারলে খুশি। সালাহউদ্দিন ভাইয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি দায়িত্ব নিতে বলেছেন।’
এবারের মৌসুমে ক্লাব ফুটবলে চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ ছিলেন টিটু। মাঝপথেই তাকে বিদায় দেয় চট্টগ্রাম আবাহনী। সেই থেকে নিজেকেও সরিয়ে রেখেছিলেন। টিটু আগেও দেশের ফুটবলে কাজ করেছেন। জাতীয় ফুটবল দলের কোচ ছিলেন ২০১২ সালে। সেখানে তার রেজাল্ট ভালো হয়নি। আর মেয়েদের ফুটবলের সঙ্গে কাজ না করলেও কোচিং কোর্স করিয়েছেন টিটু।
২০১৩ সালে ‘সি’ লাইসেন্স কোচিং কোর্স পরিচালনা করেন টিটু। তার অধীনে কোর্স করেছিলেন তৃষ্ণা, মিরোনা, জয়া চাকমা, সাবিনা খাতুনরা। গতকাল টিটুর বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে মহিলা ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ জানিয়েছেন, ছোটনকে আমি নিজে অনেক বার ডেকেছি। কিন্তু সে আসেনি। বিদেশি কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সমস্যা ছিল। এখন আর ছোটনের সুযোগ নেই।’
ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুও বলেছেন, ‘খেলোয়াড়রা ছোটনের বাসায় গিয়ে ফিরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে। আমি নিজে গিয়েছি। ছোটন আসেনি। এখন ছোটনকে ফোন করলেও সে ধরে না। খুব খারাপ লেগেছে।’
এশিয়ান গেমসের পর সাবিনাদের প্রধান কোচ হিসেবে টিটুকে রাখার পরিকল্পনা আছে বাফুফের। টিটু অবশ্য বলেছেন, সেসব নিয়ে আলোচনা হয়নি।’
টিটু যদি স্থায়ীভাবে নিয়োগ পান তাহলে বিদেশি কোচের পেছনে ছুটবে না বাফুফে। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের কাছে কোচের কথা বলে রেখেছে বাফুফে।
এদিকে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে সিনিয়র ফুটবলারদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। এশিয়ান গেমসে যাওয়ার আগে সাবিনারা পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। সে কারণে নতুন কোচ টিটুর সঙ্গে তাদের দেখা হয়নি। ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছুটি দেওয়া হয়েছে। টিটু কাজে যোগ দেবেন ১ আগস্ট।
