আড়াইহাজারে হাত বাড়ালেই মাদক

সন্ধ্যার পর জমজমাট আসর, নিরাপত্তাহীনতায় সাধারণ মানুষ 

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩, ১০:২১

আড়াইহাজারে দিনকে দিন বাড়ছে মাদক বিক্রি। ফলে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। উপজেলায় অন্তত শতাধিক মাদকের আস্তানা রয়েছে। কম-বেশি পুরো এলাকায়ই মাদক বিক্রি হয়। সবচেয়ে বেশি হয় গোপালদী পৌরসভা ও ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নে। প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাচার হওয়া মাদক উদ্ধারে চেকপোস্ট স্থাপন করলেও বাড়িতে হানা দিচ্ছে না। যার কারণে আস্তানায় বসে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হচ্ছে। পুরা উপজেলায় ইয়াবার ডিলার রয়েছে অন্তত ২০ জন। এরা সহকারী দিয়ে মাদক বিক্রি করে থাকে। সন্ধ্যার পর রামচন্দ্রদী ঋষিপাড়া ও বালিয়াপাড়ায় বসে মাদকের হাট। মাদক বিক্রেতাদের সহযোগিতা করেন স্থানীয় প্রভাবশালী মহল।

জানা গেছে, গোপালদী পৌরসভা সবচেয়ে বেশি মাদকের আস্তানা। শুধু রামচন্দ্রদী, ঋষিপাড়া ও গোপালদী মেথর পট্টিতে  ইয়াবা ও চোলাই মদের ৩০টি স্পট রয়েছে। এর মধ্যে রামচন্দ্রদীতে নারী ও পুরুষসহ অন্তত ২০ জন মাদক ব্যবসায় জড়িত। তার মধ্যে নামের আদ্যাক্ষর ‘স’ এমন এক মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে চোলাই মদের আড্ডাসহ চলে দেহব্যবসা। অন্যদিকে উলুকান্দিতে এক নারীসহ চার জন বিশেষ অফারে মাদকের আস্তানা চালাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রামগুলোতে মাদকের হাট বসে। সাধারণ মানুষ  এ ব্যাপারে ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়। ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার চিন্তা করছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, আড়াইহাজার উপজেলায় শতাধিক স্পটে মাদকের পাইকারি কারবার চলছে। এ সব স্পট থেকে মাদক নিয়ে খুচরা বিক্রেতারা ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার ৩১৬টি গ্রামে। গ্রামের তরুণ ও যুবসমাজ মাদকে আসক্ত হয়ে নানা অপকর্মে জড়াচ্ছে। মাঝেমধ্যে প্রশাসন অভিযান চালালেও তা মাদক দমনে যথাযথ নয়। এলাকাবাসীর অভিমত, শুধু চিহ্নিত কিছু স্পটে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করলেই মাদকের আগ্রাসন থামানো সম্ভব নয়। কেননা বিক্রেতারা চাহিদা অনুসারে কাঙ্ক্ষিত মাদক ক্রেতার হাতে পৌঁছে দেয়।

মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে বিশনন্দী ইউনিয়নের অবস্থান। বিশনন্দী গ্রামে মাদকের আসর জমায় দুই ব্যক্তি। তাছাড়া মর্দাসাদি, জাঙ্গালিয়া , দয়াকান্দা, গিরদা, দুপ্তারা, বাজবী, পুরিন্দা, লস্করদী, মারুয়াদি, বগাদি, গাজীপুরা, কাহিন্দি, ছোট ফাউসা ও শরীফপুর গ্রামে অন্তত ২০-২২ জন মাদক বিক্রিতে জড়িত। এর মধ্যে রয়েছে কয়েক জন নারীও। তাছাড়া  আড়াইহাজার থানার পাশেই শিবপুর, দিঘীরপাড়, মুকুন্দী, বাঘানগর, শ্রীনিবাসদী, মাহমুদপুর, উচিত্পুরা, প্রভাকরদী, ব্রাহ্মন্দী, ঝাউগড়া, পাল্লা, কাঠালিয়াপাড়ায় মাদকের জমজমাট আসর বসে।  স্থানীয়রা জানান, মাদক বন্ধে এর বিক্রেতাদের বাড়িতে অভিযান চালাতে হবে। 

আড়াইহাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, ‘আমরা মাদক বন্ধে নিজেরাই মাঠে নামব। তাছাড়াও সামাজিকভাবে মাদক বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’ 

আড়াইহাজার থানার ওসি মুহাম্মদ ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, ‘গত তিন মাসে থানায় মাদকসংক্রান্ত ৪০টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি  এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

ইত্তেফাক/কেকে