পটুয়াখালী টিবি ক্লিনিকে (বক্ষব্যাধি ক্লিনিক) চিকিত্সক সংকট রয়েছে, টেকনোলজিস্ট নেই, একমাত্র এক্স-রে মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে বিকল। পরীক্ষাগারের যন্ত্রপাতিও বিনষ্ট হচ্ছে। সেখানে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সা সেবা পাচ্ছেন না। তাদেরকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
পটুয়াখালী জেলার মানুষের বক্ষব্যাধি চিকিত্সার জন্য জেলা সদরে রয়েছে একমাত্র বক্ষব্যাধি (টিবি) ক্লিনিক। এই ক্লিনিকে দুজন চিকিত্সকের পদ থাকলেও জুনিয়র কনসালটেন্ট পদটি শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। কর্মরত একজন মেডিক্যাল অফিসার জুনিয়র কনসালটেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা কারাগার ও পুলিশ লাইনস্ হাসপাতালে। এছাড়াও তাকে পালন করতে হচ্ছে ময়নাতদন্তের দায়িত্ব। এ অবস্থায় টিবি ক্লিনিকে তার পক্ষে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
টিবি ক্লিনিকে অন্যান্য ১৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন নয়জন। গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), রেডিওগ্রাফিস্ট, ফার্মাসিস্ট, সহকারী সেবিকা এই চারটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। তবে হোম ভিজিটর, অফিস সহকারী, আয়া, সুইপার কর্মরত আছেন। এভাবে চিকিত্সকসহ জনবল সংকট নিয়ে চলছে এই ক্লিনিক।
ক্লিনিকটির অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি গত ছয় বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এ অবস্থায় এখানে আসা রোগীদের চিকিত্সকের পরামর্শ নিয়ে এক্স-রে করানোর জন্য যেতে হয় অন্যত্র নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ব্র্যাকের যক্ষ্মারোগ নির্ণয় কেন্দ্রে। ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্ট না থাকায় প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে না। শুধুমাত্র কফ পরীক্ষার কাজে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে লোক এসে সহায়তা করে থাকেন।
গত রবিবার বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, চিকিত্সা সেবা নিতে আসা রোগীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চিকিত্সকের জন্য অপেক্ষা করে আছেন বারান্দায়।
এখানে আসা রোগী সদর উপজেলার বাদুরা গ্রামের আলেয়া বেগম (৬০) বলেন, ‘সকাল নয়টায় আইয়া নাম লেহাইয়া বইয়া রইছি ডাক্তারের লইগ্যা। ডাক্তার আইছে বারোটায়। দেড়টা বাজে এহোনও লাইনে আছি।’
এই ক্লিনিকের একমাত্র চিকিত্সক ডাঃ মো. রেজাউর রহমান বলেন, টিবি ক্লিনিক ছাড়া তাকে আরো অতিরিক্ত চারটি দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সিএস অফিসে হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার কাজ শেষ করে রবিবার ক্লিনিকে আসতে বারোটা বেজে গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রতি মাসে এখান থেকে ছয় শতাধিক রোগীকে চিকিত্সা সেবা দেওয়া হচ্ছে। বিকল এক্স-রে মেশিন সম্পর্কে তিনি জানান, মেশিনটি অনুপযোগী স্যাঁতসেঁতে একটি কক্ষে বসানো হয়। তাছাড়া, সেসময় এখানে কোনো ডাক্তার না থাকায় অব্যবহূত অবস্থায় থেকে সেটি বিকল হয়ে যায়। এখানকার সমস্যা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।
পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডাঃ শাহ মোজাহেদুল ইসলাম বলেন, এখানকার বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সকল সমস্যা সম্পর্কে তিনি অবহিত রয়েছেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এসব সমস্যার সমাধান হবে।
