রাজশাহীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় প্রথম ডিম দিয়েছিল ঘড়িয়াল দম্পতি ‘পদ্মা ও গড়াই’। কিন্তু ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ না থাকায় এ দম্পতি ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষও হাল ছাড়েনি। বাচ্চা ফোটানোর জন্য ঘড়িয়াল দুটিকে রেখেছে একটি পুকুরে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত এ চিড়িয়াখানায় আগে ছিল দুটি মেয়ে ঘড়িয়াল। অন্যদিকে ঢাকা চিড়িয়াখানায় ছিল দুটি ছেলে ঘড়িয়াল। ফলে চিড়িয়াখানা দুটিতে ঘড়িয়ালের প্রজননের সুযোগ ছিল না। এ বন্ধ্যাত্ব কাটাতে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে সরকার ‘ঘড়িয়াল কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যানের’ আওতায় দুই চিড়িয়াখানার মধ্যে একটি করে ছেলে ও মেয়ে প্রজাতির ঘড়িয়াল বিনিময় করে। ফলে রাজশাহী চিড়িয়াখানার পুকুরে সংসার পাতে ‘পদ্মা-গড়াই’ দম্পতি।
বাংলাদেশ বার্ডস ক্লাবের সহ-সভাপতি ও পর্যটক তারেক অনু বলেন, চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ নানাভাবে চেষ্টা করছে ঘড়িয়ালের প্রজননের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু এখনো তারা ঐ পুকুরে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি। নদীতে যেমন ঘড়িয়াল সহজে বালুর সংস্পর্শ পায়। তারা বালু চরে রোদ পোহায়। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ঐ পুকুরের মাঝখানে বালুর ঢিবি তৈরি করলেও সেটি উপযুক্ত হয়নি।
তিনি আরো বলেন, প্রজননের জন্য নিরিবিলি পরিবেশ সবেচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দিনভর পুকুরটি ঘিরে থাকেন দর্শনার্থী ও শিশুরা। ঘড়িয়াল পানি থেকে মাথা তুললেই শিশুরা হই চৈই শুরু করে। এতে ঘড়িয়াল দম্পতি বিরক্ত হয়। পদ্মা-গড়াই দম্পতির সংসারের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল নিশ্চিত করতে পারলেই প্রজননে সাফল্য আসবে বলে মতামত দেন তিনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মো. আশরাফুল হক অবশ্য চিড়িয়াখানায় নানা সমস্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, পরীক্ষামূলক প্রজননের জন্য শিগগিরই তারা ঘড়িয়ালের পুকুরটি পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলবেন।
উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় ঘড়িয়াল আছে ১১টি। তবে বিভিন্ন নদীতে এ সংখ্যা ৫৮টি বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।
