মহারাষ্ট্রে ১৪৪ ধারা জারি

লাশের তীব্র দুর্গন্ধে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৩, ১৮:৪১

ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড়ে পাহাড়ে ধসের পর যে ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছিল তা এখন লাশের দুর্গন্ধে ছেয়ে গেছে। ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। কেউ যাতে সেখানে না যায় সেজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে বলে জানায় স্থানীয় প্রশাসন। ভারতীও সংবাদমাধ্যম টাইমস নিউজ এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রায়গড়ের ধসে এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৭। খোঁজ পাওয়া যায়নি এখনো ৮১ জনের। ধ্বংসস্তূপে আরও দেহ আটকে আছে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। অর্থাৎ মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন নারী, ১০ জন পুরুষ ও চারটি শিশু রয়েছে। একজনের শুধু দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে বলে তার বিষয়ে কিছু জানা সম্ভব হয়নি। এছাড়া এ দুর্ঘটনায় এক পরিবারের ৯ সদস্যই প্রাণ হারিয়েছে। গ্রামটির ২২৯ জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ১১১ জন নিরাপদে রয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, রায়গড় জেলার ইরশালওয়াড়ি গ্রামে বুধবার (১৯ জুলাই) ভোরে পাহাড় থেকে ধস নামে। এ ধসে গ্রামের একটা বড় অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। ঐ ধ্বংসস্তূপে ৪৮টি বাড়ির মধ্যে ১৭টি বাড়িই চাপা পড়ে। ওই সময় অনেকে ঘুমচ্ছিল যে কারণে তাড়া বাড়ি থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি এবং ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে। এছাড়া অনেক বাড়ি কাদামাটিতে বসে গেছে। দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী উদ্ধার কাজ শুরু করতে দেরি করেনি। 

তবে প্রবল বৃষ্টির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার ব্যাহত হয়েছে। গ্রামটি পাহাড়ের মাঝে সমতল থেকে বেশ খানিকটা উঁচুতে অবস্থিত। সেখানে পৌঁছনোর জন্য তেমন কোনো রাস্তা নেই। অর্থাৎ দুর্গমতাই উদ্ধারকাজের অন্যতম প্রতিবন্ধক এখন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মহারাষ্ট্র সরকার রায়গড়ে নিহতদের পরিবারকে পাঁচ লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল। এছাড়া আহতদের চিকিৎসা চলছে সরকারি খরচে। মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তাঁর শ্রীকান্ত শিন্ডে ফাউন্ডেশন ভূমিধ্বসে প্রাণ হারানো পরিবারের ২ থেকে ১৪ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষার সামগ্রিক দায়িত্ব নেবে।

ইত্তেফাক/এমটি/এএইচপি