নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আবার আক্রমণ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মোদির নাম উল্লেখ না করে মঙ্গলবার জরুরি অবস্থা জারির বার্ষিকীতে টুইট করেছেন মমতা। সেই টুইটেই অভিযোগ করলেন, গত পাঁচ বছর ধরে দেশে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাকও দিলেন।
মমতা টুইটারে লিখেছেন, ‘১৯৭৫ সালে আজকের দিনেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ৫ বছর ধরে দেশে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলেছে। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের উচিত দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য লড়াই করা।’ খবর আনন্দবাজার পত্রিকার
নরেন্দ্র মোদির শাসনকালকে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ আখ্যা দেওয়া মমতার তরফে এবারই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে তিনি বহুবার বলেছেন এ কথা। জাতীয় স্তরে মোদি বিরোধী জোট গড়ে তোলার চেষ্টা যখন করেছেন, তখনো বার বার ‘সুপার ইমার্জেন্সি’র বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিতে দেখা গিয়েছে তাকে। ভোটের ফল বলছে, সে আহ্বানে খুব একটা সাড়া মেলেনি। কিন্তু মমতা বুঝিয়ে দিলেন, ভোটের ফল যা-ই হোক, তিনি নিজের অবস্থান থেকে নড়তে নারাজ। নরেন্দ্র মোদীর শাসনকে তিনি এখনো ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ মনে করছেন, এ দিনের টুইটে তা ফের বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৭৫ সালে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, এদিন তার নিন্দায় নরেন্দ্র মোদিও টুইট করেছেন। সে টুইটে রয়েছে ১ মিনিট ২৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। তাতে জরুরি অবস্থার সময়ের স্মৃতিচারণ। আর ভিডিওর নিচে লেখা, ‘ভারত সেই সব মহতীকে কুর্নিশ করে, যারা তীব্র এবং নির্ভীকভাবে জরুরি অবস্থার বিরোধিতা করেছিলেন। একটা কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে সফলভাবে টিকে থেকেছে ভারতের গণতান্ত্রিক মানসিকতা।’
জরুরি অবস্থার বার্ষিকীতে মমতার টুইটে মোদির প্রতি খোঁচা থাকলেও মোদির টুইটে মমতার প্রতি কোনো কটাক্ষ থাকবে, এমনটা কেউ আশা করেনি। তেমন কিছু ঘটেওনি। তবে মোদি মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য মমতাকে রেয়াত করেননি। প্রকাশ জাভেদকর টুইট করেছেন, ‘যেভাবে মমতা আজ শাসন করছেন, তা জরুরি অবস্থার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।’ মোদির আরেক মন্ত্রী ও বাংলা থেকে নির্বাচিত সাংসদ দেবশ্রী চৌধুরীও আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রায় মমতার ভাষাই মমতাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন দেবশ্রী। তার টুইট, ‘আমরা এমন একটা রাজ্যে বাস করছি, যেখানে রাজ্য সরকার গোটা পশ্চিমবঙ্গে সুপার ইমার্জেন্সি জারি করেছে...।’
