দেশে এ বছর লবণ উত্পাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে এবার রেকর্ড পরিমাণ লবণ উত্পাদন হয়েছে বলে বিসিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাই সরকার লবণ রপ্তানির চিন্তা-ভাবনা করছে। কিন্তু একটি মহল অতিরিক্ত চাহিদা দেখিয়ে লবণ আমদানির পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিসিক সূত্র জানায়, এ বছর ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন লবণ উত্পাদন হয়েছে। আর দেশে বছরে লবণের চাহিদা রয়েছে ১৬ লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন। ফলে চাহিদার বেশি লবণ উত্পাদন হওয়ায় সরকার কিছু লবণ রপ্তানির চিন্তা করছে।
জানা যায়, দেশে নভেম্বর মাসে লবণ উত্পাদন শুরু হয়। গত ২০ মে লবণ উত্পাদনের মৌসুম শেষ হয়েছে। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় লবণের চাষ হয়ে থাকে। লবণ উত্পাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও প্রান্তিক চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য পায়নি। মাঠ পর্যায়ে প্রতিমণ লবণ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ প্রতিমণে উত্পাদন খরচ পড়ে প্রায় ৩০০ টাকা। ফলে লোকসানের কারণে এখনো প্রচুর লবণ প্রান্তিক চাষিদের কাছে মজুত রয়েছে। তাঁরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এখন বিক্রি করছে না।
এ প্রসঙ্গে বিসিক কক্সবাজার কার্যালয়ে উপ-মহাব্যবস্থাপক সৈয়দ আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত ৬০ বছরের মধ্যে এ বছর সবচেয়ে বেশি লবণ উত্পাদন হয়েছে। মাঠ চাষিদের কাছে ৫ দশমিক ৭৫ লাখ মেট্রিক টন মজুত রয়েছে। আর মিল মালিকদের গুদামে প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে। চাহিদার উদ্বৃত্ত হওয়ায় অন্তত ৫০ হাজার মেট্রিক টন লবণ রপ্তানির চিন্তা -ভাবনা চলছে।’ কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, ঝালকাটি, ঢাকা ও খুলনায় প্রায় ২৫০টির মতো লবণ মিল রয়েছে। তাঁরা মৌসুমের সময় চাষিদের কাছ থেকে লবণ কিনে গুদামে মজুত করেন। পরে মিলে পরিশোধন করে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রি করে। বিসিক ও চাষিদের অভিযোগ, দেশের মিল মালিকদের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট গত কয়েক বছর যাবত্ লবণের ঘাটতি দেখিয়ে আমদানির পাঁয়তারা করছে। এবারও তাঁরা আমদানির জন্য পাঁয়তারা শুরু করেছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতি সূত্র জানায়, দেশে বছরে লবণের চাহিদা প্রায় ২৪ লাখ মেট্রিক টন। চাহিদার তুলনায় লবণ উত্পাদন কম হয়েছে। ভোজ্য ছাড়াও শিল্প, প্রাণী সম্পদ ও মত্স্য প্রক্রিয়াজাত করণে লবণ ব্যবহার হয়ে থাকে।
লবণ ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, লবণ আমদানিতে বেশি লাভবান হওয়া যায়। লবণের প্রতি কেজি আমদানি খরচ পড়ে ৬/৭ টাকা। আর এসব লবণ প্যাকেটজাত করে কেজি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। বাংলাদেশ লবণ চাষি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কায়সার ইদ্রিস বলেন, ‘দেশের লবণ শিল্পকে ধ্বংস করতে একটি মহল কয়েক বছর যাবত্ পাঁয়তারা করছে। তাঁরা লবণের ঘাটতি দেখাচ্ছে। যাতে সরকার আমদানির অনুমতি দেয়। বর্তমানে চাষিরা লবণ চাষে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। লবণের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। অনেকেই লবণ চাষ ছেড়ে দিয়েছে।’
