মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

হাওরের বুকে প্রতিটি গ্রামই যেন ভাসমান দ্বীপ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৩, ১৫:৪৭

হাওরবেষ্টিত অনেকগুলো গ্রাম। বর্ষায় একেকটি গ্রামকে মনে হয় যেন একেকটি ভাসমান দ্বীপ।  ছবির মতো সেই গ্রামগুলোতে রয়েছে প্রায় দেড় লাখ মানুষের বাস।

কিশোরগঞ্জের নিকলীর সাত ইউনিয়নের গ্রামগুলোর চিত্র এটি। এখানে শুকনা মৌসুমে হাওরের মাটিতে যেমন ফলে সোনালি ধান, তেমনি বর্ষায় হাওরের ভাসমান পানিতে পাওয়া যায় রূপালি মাছ। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এসব গ্রাম।

সরেজমিনে হাওর ঘুরে দেখা গেছে, হাওরের মানুষের কর্মময় বছরের শুরু হয় বর্ষায়, শেষ হয় কার্তিক মাসে। পুরো শীতের সময় মানুষ থাকে কর্মব্যস্ত। আর বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে থাকে ধান কাটার ধুম। ওই ফসল ঘরে তুলতেই পানি এসে যায়। বন্যায় অনেক বছর একমাত্র বোরো ধানের ফসলের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। নিকলী উপজেলার মানুষদের বর্ষাকালে চলাচলের একমাত্র বাহন নৌকা। ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় চড়ে দুলতে দুলতে জেলেরা যান হাওরে মাছ ধরতে। ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা লঞ্চে চড়ে মাইক বাজিয়ে বিয়েবাড়ির লোকজন বাড়ি যান।

নিকলী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারার শাহরিয়া আহমেদ তুলিপ বলেন, বর্ষায় আমরা পানিতে ভাসি। যখন বাতাস আসে, বড় বড় ঢেউ এসে গ্রামে আছড়ে পড়ে। তখন গ্রাম রক্ষায় দিন-রাত পানিতে নেমে থাকতে হয়।

নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মদ শাকিলা পারভিন জানান, হাওরের গ্রামগুলো অপার সুন্দরের লীলাভূমি। হাওরের বিচ্ছিন্ন গ্রামগুলোকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে পারলে জমি রক্ষা পাবে, আয় বৃদ্ধি পাবে ও সবাই নাগরিক সুবিধা পাবে। সবকিছু মিলিয়ে সারা বছরের কর্মসংস্থান হবে।

 

 

ইত্তেফাক/আরএজে