গ্রিন লাইনকে অবশ্যই বাকি ৪৫ লাখ টাকা শোধ করতে হবে

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ২৩:০৮

বাসের চাপায় পা হারানো রাসেল সরকারকে বাকি ৪৫ লাখ টাকা দিতেই হবে। প্রতি মাসে ৫ লাখ টাকা করে এই অর্থ গ্রীন লাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে হবে। মাসের ৭ তারিখের মধ্যে ঐ অর্থ পরিশোধ করে ১৫ তারিখের মধ্যে আদালতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। গ্রীন লাইনের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলেন, যদি আপনারা আদালতের আদেশ লঙ্ঘন করেন তাহলে আমরা অন্য ব্যবস্থা নেব। কোনো ভাবেই ক্ষতিপূরণের অর্থ কমানোর সুযোগ নেই। আদালতের আদেশ লঙ্ঘনের জন্য যে ফন্দি-ফিকির করে, সরকার তাকে কীভাবে পেট্টোনাইজ করে আমরা দেখব?

এ প্রসঙ্গে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের পেট্টোনাইজ করার প্রশ্নই উঠে না। আমরা চাই উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন হোক।

গ্রীন লাইন পরিবহনের বাসের চাপায় পা হারায় রাসেল সরকার। আদালত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা প্রদানের নির্দেশ দেয়। ঐ নির্দেশনা মোতাবেক গ্রীন লাইন পরিবহন এ পর্যন্ত রাসেলকে ৫ লাখ টাকার চেক ও চিকিত্সার জন্য তিন লাখ টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা দেওয়ার জন্য বারবার সময় দেওয়া হলেও তারা পরিশোধ করেনি। গতকাল এ মামলার শুনানি ছিল। সকালে গ্রীন লাইন পরিবহনের পক্ষে ক্ষতিপূরণের অর্থ কমানো এবং তা কিস্তিতে পরিশোধের জন্য আবেদন করা হয়।

আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে গ্রীন লাইনের আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ বলেন, রাসেলকে এ পর্যন্ত ৫ লাখ টাকা আর চিকিত্সা বাবদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি। আদালত বলেন, আমাদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে গেছেন। কিন্তু আপনাদের আবেদন খারিজ হয়েছে। এখন ক্ষতিপূরণের পরিমাণ হ্রাসের কোনো সুযোগ নেই। আর ছেলেটিকে চাপা দেওয়া হয়েছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে। আপনারা তো দেউলিয়া হয়ে যাননি। কিছু টাকা দিলে কী হতো। আদালত আরো বলেন, ক্ষতিপূরণের অর্থ দিতে হবে। আপনারা ধর্মঘট বা যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না করলে ব্যবস্থা নেব। আদালতের আদেশের পরেও টাকা না দিয়ে যথেষ্ট বেয়াদবি করেছেন। আমরা অনেক সহ্য করেছি। আপনারা মনে রাখবেন সেও (রাসেল) একজন গাড়ি চালক, পরিবহন শ্রমিকের বাইরের কেউ নন।

সড়ক নিরাপত্তায় বিআরটিএ কিছুই করতে পারছে না :

রুলের জবাব দাখিলের পর বিআরটিএর আইনজীবী রফিউল ইসলাম রাফি বলেন, বিআরটিএ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটির কার্যক্রম এখনো চলছে। আদালত বলেন, কমিটির কথা শুনতে চাচ্ছি না। এখনো সড়কে বিশৃঙ্খলা রয়েছে। বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে অ্যাকশন দেখতে চাচ্ছি। এবারের ঈদে অন্তত ৪৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে সাতশ জনের মতো। যাত্রীদের নিরাপত্তা কোথায়? এখন পর্যন্ত চালকদের যোগ্যতাই নির্ধারণ করতে পারেন নাই। চালকরা বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছে। বিআরটিএ কিছু করতে পারছে না।