বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের সংবাদমাধ্যমের ১৬ জন প্রতিনিধিকে নিয়ে তুরস্কে দুর্যোগ সাংবাদিকতার ওপর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তুর্কি কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) ও তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে আনাদোলু এজেন্সির (এএ) যৌথ উদ্যোগে গত ১৬ থেকে ২২ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আনকারায় এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। যেকোনো দুর্যোগের সংবাদ সংগ্রহ ও তা উপস্থাপনের দক্ষতা বাড়ানো এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ছিল।
বাংলাদেশ থেকে এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন এটিএন নিউজের সিনিয়র প্রডিউসার ফারুকে আযম। তিনি বিভিন্ন সেশনের আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন।
আয়োজকরা বলেন, বিশ্বব্যাপী দুর্যোগের তীব্রতা বাড়ছে। ফলে সঠিক ও সময়োপযোগী সাংবাদিকতা এবং সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। যেকোনো দুর্যোগের খবর প্রচারের সময় সংবাদকর্মী হিসেবে নৈতিক মান বজায় রাখার পাশাপাশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভুল তথ্য প্রচার করা যাবে না। দুর্যোগপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে মানুষের মানসিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও সংবাদকর্মীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া দুর্যোগকালীন জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা কিংবা উদ্ধার তৎপরতায় অংশ হিসেবে প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কেও ধারণা রাখা প্রয়োজন।
এছাড়া প্রশিক্ষণের বিভিন্ন সেশনে তুরস্কের সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াল অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন সেখানকার সংবাদকর্মীরা। এসময় দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর সংবাদকর্মীদের নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সুসম্পর্ক সুদৃঢ় করতে উৎসাহ দেওয়া হয়।
এটিএন নিউজের সিনিয়র প্রডিউসার ফারুকে আযম বলেন, এমন একটি আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা চমৎকার। বাংলাদেশে আমরা প্রতিবছর বিভিন্ন দুর্যোগের মুখোমুখি হই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিহত করার ক্ষমতা আমাদের নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতির মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি প্রশমন করা সম্ভব। আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা এক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারি। এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সেই বিষয়টিই বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
ফারুকে আযম বর্তমানে 'নির্মাণ রসায়ন' নামের একটি অনুষ্ঠান প্রযোজনা করছেন। এর মাধ্যমে ভূমিকম্প সহনশীল স্থাপনা তৈরির উপায়, স্থাপনার অগ্নিনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় নগর-গঠনে স্থপতি ও পরিকল্পনাবিদের কর্তব্য, সাধারণ মানুষের ভূমিকাসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, তুর্কি কোঅপারেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন এজেন্সি (টিকা) ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও বাসস্থান সংক্রান্ত নানা প্রকল্পে কাজ করছে। এবারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ছাড়াও ক্রোয়েশিয়া, কাজাখাস্তান, কিরগিস্তান, কসোভো, সেনেগাল, সোমালিসহ বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানায় তারা।
