সাইলেন্ট রিডিং

এ প্রজন্মের বইপড়ার অভ্যাস ফেরাতে ভিন্ন উদ্যোগ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৩, ০২:৪৫

বইপড়ুয়ারা নিজেরাই শতরঞ্জি বা বিছানার চাদর বিছিয়ে, কেউ বসে কেউ শুয়ে বই পড়া শুরু করেন। শুধু তাই নয়, সাথে নিয়ে আসেন ফলমূল ও খাবার। যেন একদম একান্ত সময়ে নিজেদের পছন্দের বইটি পড়ার জন্যে উপযুক্ত মুহূর্ত। ভলান্টিয়ার অপারচুনিটিস আয়োজিত বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছিল ‘সাইলেন্ট বুক রিডিং’ শীর্ষক এক বিশেষ উদ্যোগ।

বইপড়ুয়াদের কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই, শিশু থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী সকলেরই আনাগোনা ছিল। কেউ সারা সপ্তাহের ক্লান্তি দূর করতে বই নিয়ে রমনার বিশুদ্ধ বাতাস অনুভব করতে এসেছিলেন। আবার কেউ-বা কখনো বই পড়েননি, তবু বইপড়ুয়াদের পরিবেশে নিজেকে একটু আগ্রহী করতে বই নিয়ে হাজির হয়েছিলেন।

একজন শিশু বইপড়ুয়া জানায়, ‘আমি আমার মিস-এর সাথে এসেছি, আমি আরো আসতে চাই। আজকে আমার সবার সাথে বই পড়তে খুব ভালো লেগেছে।’

এখানে কেউ পড়েছেন বিভূতিভূষণ কেউ-বা সমরেশ। আবার কেউ পড়েছেন পাওলো কোয়েলহো বা কোলেন হোভার, আবার কেউ নিয়ে এসেছিলেন ইসলামিক বই।

একজন চাকরিজীবী বলেন, ‘কর্মব্যস্ততার চাপে ভুলেই গিয়েছিলাম যে, আমার এককালে রোজ সপ্তাহে দুটো বই শেষ করার অভ্যাস ছিল। হায়! হারিয়ে ফেলেছি সময়গুলো, তাই তো ছুটে আসা।’

বেশ কিছুদিন আগে ইন্ডিয়ায় সাইলেন্ট বুক রিডিং ইনিসিয়েটিভ বেশ ভালো আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এমন বই পড়ার প্রচলন থাকলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পার্কে বা খোলা আকাশের নিচে বই পড়া যেন হাস্যরসের মাধ্যমেই সাড়া পায়! তবে এদিন রমনার নতুন রূপ সৃষ্টি করে ভলান্টিয়ার অপারচুনিটিস। ভলান্টিয়ার অপারচুনিটিসের ফাউন্ডার মিথুন দাস কাব্য বলেন, ‘শুধু একটা দিনকে কেন্দ্র করে নয়, বরং নিয়মিত এ ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

শুধু বই পড়া নয় পরিবেশবান্ধব মনোভাব তৈরি করতে তিনি নিয়ে আসেন ইকোফ্রেন্ডলি ডাস্টবিন। এ সময় সকলকে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতেও উৎসাহিত করেন তিনি।

আলো শুধু ভৌগোলিকভাবে ছড়িয়ে যেতে পারে। আর বই অতীত থেকে ভবিষ্যৎ, নিকট থেকে দূরে, এমনকি যুগ থেকে যুগান্তরে জ্ঞানের আলো পৌঁছে দিতে পারে। শ্রেষ্ঠ শিক্ষা হলো আত্মশিখন। আর তাই সৈয়দ মুজতবা আলী বলেছেন, ‘বই কিনে কেউ কোনদিন দেউলিয়া হয় না।’

বই পড়ার এমন উদ্যোগ যেন শুধু বই পড়াকে কেন্দ্র করে নয় বরং, এর সাথে মিশে ছিল ক্লান্তি শেষে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার যজ্ঞ। যেন পুরানো দিনের অভ্যাসকে একটুখানি নতুন করে অনুভব করা, আর প্রকৃতির সাথে মিশে গিয়ে নিজের জীবনের নতুন গল্প রচনা করার আয়োজন ছিল। ভলান্টিয়ার অপারচুনিটিস এ উদ্যোগের জন্যে সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

ইত্তেফাক/এসটিএম