ভর্তি পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজন নেই ন্যুনতম পাস নম্বরের, ফেল করলেও দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কেবল মাত্র আবেদনের যোগ্যতা থাকলেই চলবে। আরেকটু সহজ ভাষায় বললে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। পোষ্য কোটার ধোঁয়া তুলে এমনই এক অদ্ভুত আবদার করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কর্মকর্তারা। এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে স্মারকলিপি। পৃথক তিনদিনে পালন করা হয়েছে নয় ঘন্টার কর্মবিরতি।
জানা যায়, গুচ্ছ ভর্তি প্রক্রিয়ার শর্ত অনুযায়ী ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় ন্যুনতম ৩০ নম্বর পেলেই কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করবেন একজন শিক্ষার্থী। কোটাধারীদের জন্যও একই শর্ত রাখা হয়েছে। তবে ইবিতে গুচ্ছের এই শর্ত পরিবর্তন করে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলেই পোষ্য কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন ও ভর্তি নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কর্মকর্তারা। এছাড়া, শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকেও পোষ্য কোটার বিষয়টি বিবেচনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কর্মকর্তাদের দেওয়া এ সংশ্লিষ্ট স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টির পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের পোষ্য কোটায় ভর্তি বিষয়ে বিশেষ সুযোগ প্রদান করে আসছিল। গুচ্ছের অধীনে ভর্তি পরীক্ষা চালু হওয়ার পরেও ভর্তি পরীক্ষায় আবেদন করার ন্যুনতম যোগ্যতার শর্তে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে পোষ্যদের ভর্তি করা হয়েছে। ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে পোষ্য কোটায় ভর্তির কোনো বিশেষ সুযোগই রাখা হয়নি।
তাই এ দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার (৩১ জুলাই) সকাল ৯ টা থেকে ৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তারা। এর আগে গত ২৬ এবং ৩০ জুলাই সকাল ৯ টা থেকে যথাক্রমে ২ ও ৩ ঘন্টার কর্মবিরতি পালন করেন তারা। তবে শোকাবহ আগস্ট উপলক্ষে কর্মসূচী আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। দাবি আদায় না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি প্রদানের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এবিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি এ টি এম এমদাদুল আলম বলেন, পোষ্য কোটায় ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের ন্যুনতম যোগ্যতা থাকলেই ভর্তি নিতে হবে। এবছর পোষ্য কোটায় ১৮-২০ জন রয়েছে, যা ৩৬ টি বিভাগে একজন করেও পড়ে না। একজন শিক্ষার্থী বিভাগে ভর্তি হয়ে লেকচার শুনবে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তো বাড়তি খরচ হচ্ছে না।
কর্মকর্তা সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওয়ালিদ হাসান মুকুট বলেন, আমরা আজকে (সোমবার) ৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছি। কর্মবিরতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা শুধু নতুন ভর্তিচ্ছুদের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রেখেছি। তাছাড়া আর কোনো স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়নি।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার বলেন, কর্মকর্তারা বিষয়টি আমাদের জানালে আমরা তাদের দাবি বিবেচনার উদ্দেশ্যে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। যেন কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্তে আসা যায়। তবে একেক বছর একেক শর্তে ভর্তি করানো হয় বলেই এই সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে। যদি গুচ্ছ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে একটি শর্ত জুড়ে দেয়া হয় সেক্ষেত্রে এটা নিয়ে কর্মকর্তাদের আর কিছু বলার থাকবেনা।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ আবদুস সালাম বলেন, কর্মকর্তারা তাদের দাবির মাধ্যমেই আন্দোলনকে দুর্বল করেছে। শুধুমাত্র আবেদনের যোগ্যতায় ভর্তির দাবি কখনোই মেনে নেওয়ার নয়। আমি গুচ্ছের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বলেছি আমরা যেহেতু গুচ্ছের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি সেক্ষেত্রে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্যকোটায় ভর্তির যোগ্যতা কিছুটা শিথিল করা যায় কিনা! ইতোমধ্যে গুচ্ছের কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটিতে চিঠিও পাঠিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাদের হাতে।

জাবিতে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে অনশন
হলে সিটের দাবিতে জাবি ছাত্রীদের ফের অবস্থান-বিক্ষোভ