ভরা মৌসুমেও খুলনার দাকোপে স্থানীয় বিভিন্ন নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। এনজিও থেকে ঋণ ও মহাজনের দাদন নিয়ে জাল ও নৌকা কিনে অনেকে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু দিনরাত নদীতে জাল ফেলেও ইলিশ না পেয়ে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন তারা। আবার বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় উপজেলার হাজারো জেলে পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
এদিকে ইলিশ না পেয়ে এনজিও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় কেউ কেউ তাদের সঙ্গে ঝামেলায় জড়াচ্ছেন। মাঝে মধ্যে আবার অনেক জেলেকে আত্মগোপনে থাকতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা।
উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, পৃথক তিন দ্বীপের সমন্বয় গঠিত এই উপজেলার চারপাশে নদী দিয়ে পরিবেষ্টিত। তাই এক সময়ে অধিকাংশ মানুষ এ মৎস্য আহরণের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মৎস্য আহরণের অভয়ারণ্য ছিল উপজেলার উল্লেখযোগ্য ঢাকী, ভদ্রা, শিপসা, কাজীবাছা, মাঙ্গা, পশুর ও ঝপঝপিয়া নদী। তবে ভরা মৌসুমেও ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। যে কারণে উপজেলার বিভিন্ন হাট ও বাজারেও ক্রেতাদের সঙ্গে ইলিশের দেখা মিলছে খুব কম। মাঝে মধ্যে দু’একজন জেলের জালে দুই একটি মাছ ধরা পড়লেও বাজারে তার দাম আগুন। যা সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
পশুর নদীর জেলে উপজেলার খলিসা এলাকার শিবপদ বিশ্বাস জানান, তার একমাত্র পেশা ইলিশ মাছ ধরা। চলতি মৌসুমে মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে জাল ও নৌকা কিনেছেন। কিন্তু ভরা মৌসুমেও নদীতে দিনরাত জাল ফেলে ইলিশ মাছের দেখা না পেয়ে নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
এতে অভাব অনাটনে তাদের চার পরিবার অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছেন বলে জানান তিনি।
মাছ কিনতে আসা ক্রেতা আব্দুল ছাত্তার ও সোহাগ আহমেদ জানান, স্থানীয় নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি বিধায় মাছ কিনতে এসেছেন। কিন্তু বাজারে দুই একটা মাছ আসায় দাম অত্যন্ত চড়া। সবার পক্ষে এতো দামে মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব না। তাই মাছ না কিনে তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
চালনা বৌমার গাছতলার মাছ বাজারের ব্যবসায়ী জাহিদুল শেখ জানান, স্থানীয় নদীর ইলিশ তেমন একটা বাজারে আসছে না। যা দুই একটা আসছে তা আঠারোশ থেকে দুই হাজার কেজি দরে বিক্রি করছেন। তবে তারা খুলনা থেকে বরিশালের মাছ এনে বিক্রি করছেন। এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৫শ টাকা আর আধা কেজির মাছ ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন, সাগরে তো এখন অনেক ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ মাছ ধারা পড়বে। তা ছাড়া বৃষ্টি কম ও স্থানীয় নদী পলি পড়ে ভরাট হওয়ায় ও নদীর মুখে বিভিন্ন কারণে বাধা প্রাপ্ত হওয়ায় মাছ উঠতে দেরি হয়।
