যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন, শঙ্কায় ২০ গ্রামের মানুষ

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ২২:০৯

সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা তাহিরপুরের যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করায় নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ঐ এলাকার ২০ গ্রামের অধিবাসীরা বসত ভিটা হারানোর শঙ্কায় উদ্বিগ্ন। 

কখন যে তাদের বসত ভিটা জমি-জিরাত পাহাড়ি স্রোতের টানে ভেসে যায়। এক শ্রেণির বালু খেকোদের দুর্বৃত্তপনায় এলাকার মানুষ অতিষ্ট। ‘সন্ত্রাসী হামলা’র ভয়ে তারা কথাও বলতে পারছে না। প্রতিবাদ করলে ‘হত্যার’ হুমকি দেওয়া হচ্ছে।  

ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রামের আকাশ মিয়ার স্ত্রী রাজিনা বেগম (৫০) বলেন, পাড় কাটতে কাটতে তারা তার বাড়ির উঠান কাটা শুরু করেছে। বাধা দিলে তার ওপর হামলা করে এবং মেরে ফেলার হুমকি দেয়। তিনি জানান, যেকোনো মুহূর্তে তার বাড়িটা নদী গর্ভে চলে যাবে। তিনি তার বসতভিটা রক্ষায় সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

এদিকে গত শুক্রবার রাতে নদীর তীর কাটা বন্ধ করে ২০ গ্রাম রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন ভুক্তভোগী মানুষ। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে যাদুকাটা নদীর তীরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

ঘাগটিয়া টেকেরগাও গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ সামরুজ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় গ্রামের ভুক্তভোগী কয়েক শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং তারা বালু খেকোদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
 
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর সভাপতি আবু নাসের। 

এ সময় ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে যাদুকাটা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে ড্রেজার, বোমা মেশিন দিয়ে নদীর পাড় কাটছে। এতে বসত বাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। তারা বলেন, প্রতিবাদ করলে প্রভাবশালী বালুখেকোচক্র মারধর করে এবং মামলার হুমকি দেয়।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, নদীর পাড় কাটার কারণে ঘাগটিয়া গ্রামসহ ২০টি গ্রাম হুমকির মুখে। ইজারার কথা বলে তারা পাড় কাটছে। নদীর পাড় কখনো ইজারা দেওয়া হয় না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রশাসন মাঝে মাঝে অভিযান চালালেও এতে সাময়িকভাবে পাড় কাটা বন্ধ হয়। কিছুদিন পর আবার শুরু হয়। 

তিনি আরও বলেন, আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। দৃষ্টি নন্দন এই নদীর তীরে গার্ডওয়াল দিয়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হলে এর তীর রক্ষা পাবে। পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) এর সভাপতি আবু নাসের বলেন, এমন কর্মকাণ্ডে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। হাওরের ইকো সিস্টেম বিনষ্ট হচ্ছে। গ্রাম ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ড, হাওর উন্নয়ন সংস্থাসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি এসব অপকর্ম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানান। 


 
বেশ কয়েকদিন আগে বাদাঘাট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিনের উদ্যোগে বিভিন্ন সভা সেমিনার অনুষ্টিত হয়। এরপর তাহিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের হস্তক্ষেপে ড্রেজার বন্ধ হয়। কিন্তু থামেনি নদীর পাড় কাটা ও বালু উত্তোলন।

৪টি বাল্কহেড আটক: ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা

গত ৩ আগষ্ট বৃহষ্পতিবার প্রকাশ্য দিবালোকে তীর কাটার মহোৎসব চলে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিও ভিডিওসহ একটি পোস্ট করা হলে অবশেষে প্রাচীন এ জনপদ রক্ষায়  তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুপ্রভাত চাকমার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে বালু ভর্তি ৪ বাল্কহেড নৌকা আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের অপরাধে ৪টি নৌকার মালিকের কাছ থেকে ১ লক্ষ করে মোট ৪ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় কর হয়। তিনি জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন।

ইত্তেফাক/পিও