‘ই-কমার্সে ভ্যাট ডিজিটাল রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্য হুমকি’

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ২০:৪২

মাহবুব শরীফ

 

ডজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তরের কোনো বিকল্প নেই। সময় ও দূরত্বের বাধা দূর করে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সেতু বন্ধন তৈরি করতে ই-কমার্স এখন সবচেয়ে আলোচিত একটি বিষয়। সবে মাত্র বিকশিত হতে শুরু করায় এটি সরকারের একটি লাভজনক সেক্টর হিসেবেও বিবেচিত। এমন সময় ফেসবুক ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাটের আওতায় আনতে গিয়ে প্রস্তাবিত বাজেটে ডিজিটাল ব্যবসায়ের ওপরেও সাড়ে সাত (৭.৫%) শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেবল ব্যবসায়ের ডিজিটাল রূপান্তরই বাধাগ্রস্ত হবে না, উদ্যোক্তাদের ওপর দ্বৈত  বোঝাও চাপিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ডিজিটাল রূপকল্প বাস্তবায়নের জন্যও হুমকি হবে ।

সম্প্রতি রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ ‘লা ভিঞ্চি’ রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাজেটে ই-কমার্সে ৭.৫% ভ্যাট আরোপের প্রতিক্রিয়ায় ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার এসব কথা বলেন।

অনলাইন পণ্য ও সেবা বিক্রয়কে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ২০১৮ ও বাংলাদেশ গেজেটে (জানুয়ারি ৩১, ২০১৯) প্রকাশিত সংজ্ঞা অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত করে আলাদা সার্ভিস হিসেবে বিবেচনা করা এবং নতুন সেবা কোড বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে পূর্বের এস আর ও বহাল রেখে বরাবরের মতো ই-কমার্স খাতের ওপর প্রস্তাবিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এই খাতের জাতীয় সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)।

সংগঠনটির দাবি, এই ভ্যাট প্রত্যাহারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্রয়-বিক্রয়ে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও ভোক্তার ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াবে। সর্বোপরি এই ভ্যাট ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বাধা সৃষ্টি করবে। সম্প্রতি রাজধানীর কাওরানবাজারস্থ ‘লা ভিঞ্চি’ রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করা হয়। এ সময় আজকের ডিল, বাগডুম ডটকম, রকমারি ডটকম, দারাজ ডটকম, চালডাল ডটকম, পাঠাও, সেবা এক্সওয়াইজেড, দিনরাত্রি ডটকম, সিন্দাবাদ ডটকম, প্রিয়শপ ডটকম প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ওপর আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারে ঐকমত্য  প্রকাশ করেন।

 সম্মেলনে জানানো হয়, ইতিমধ্যে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিবৃন্দ এনবিআর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইসিটি বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করে বাজেটে ই-কমার্স-এর সংজ্ঞা পরিবর্তন, ভুল সংশোধন এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসের ওপর আরোপিত ভ্যাট অব্যাহতিসহ বেশকিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। ই-ক্যাব-এর প্রস্তাবনার ওপর সম্মতি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইসিটি বিভাগ থেকে দুটি অফিসিয়াল চিঠি এনবিআরের চেয়ারম্যান মহোদয় বরাবর পাঠানো হয়েছে। ই-ক্যাব সভাপতি শমী কায়সারের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াহেদ তমাল, অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল হকসহ ই-ক্যাব কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ই-কমার্স খাতে ভ্যাট সরকারের ডিজিটাল সেবা খাত বিকাশে বাধাগ্রস্ত করবে উল্লেখ করে ই-ক্যাব সেক্রেটারি মোহাম্মাদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘আমরা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে দীর্ঘ মেয়াদে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানাচ্ছি। আমরা সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে একমত। কিন্তু তাই বলে বৃহত্তর স্বার্থে স্বল্প মেয়াদি আয়ের বিনিময়ে নয়। এ কারণেই আমরা ই-কমার্সের সংজ্ঞাকে পরিষ্কার করতে চাই। যাদের ফিজিক্যাল কোনো স্টোর নেই, কেবল অনলাইনেই পণ্য বিক্রি করেন শুধু সেসব প্রতিষ্ঠানকেই ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানাই।’