যশোর কালেক্টরেট ভবনের পূর্ব পাশের মালখানার পরিত্যক্ত গাড়ি আর ময়লার ভাগাড় এডিস মশা উৎপাদনের কারখানায় পরিণত হয়েছে। এখানে হাজার হাজার জীবন্ত এডিস মশা, পিউপা ও লার্ভার সন্ধান মিলেছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরীক্ষা চালিয়ে এর প্রমাণ পেয়েছে। কীটতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে সিভিল সার্জন অফিসের একটি টিম গতকাল বৃহস্পতিবার এখানকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। টিম দেখতে পায় পুরোনো গাড়ির ছাদ, টায়ারসহ নানা যন্ত্রাংশের ফাঁকে এডিস মশার লার্ভায় সয়লাব হয়ে রয়েছে। এ সময় ইত্তেফাককে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে মালখানার সামনের পুরো পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। এখানকার জমে থাকা পানি এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযুক্ত পরিবেশ।
কীটতত্ত্ববিদ আমিনুল ইসলাম বলেন, উপযুক্ত পরিবেশে এডিস মশা প্রথমে ডিম পাড়ে। ডিম ৫ থেকে ৬ দিনে লার্ভায় পরিণত হয়। ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে লার্ভার পিউপায় রূপান্তর ঘটে। এই পিউপা এক-দুই দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ এডিস মশায় পরিণত হয়ে উড়ে যায়। কালেক্টরেট চত্বরে পরীক্ষায় হাজার হাজার লার্ভা দেখেছি। রয়েছে পিউপা, পূর্ণাঙ্গ এডিস মশাও। পরীক্ষা করতে গিয়ে আমরা নিজেরাও মশার কামড় খেয়েছি। তিনি আরো জানান, পানি শুকিয়ে যাওয়ার পরও দুই বছর পর্যন্ত এডিস মশার ডিম সুপ্ত অবস্থায় থাকে। পানির অনুকূল পরিবেশ পেলেই সেখান থেকে জীবন্ত মশা জন্ম নেবে। এজন্য ডেঙ্গু জ্বরের বিস্তার ঘটে থাকে।
সিভিল সার্জন ডা. বিপ্লব কান্তি বিশ্বাস বলেন, ইত্তেফাকের সংবাদ দেখে আমরা কালেক্টরেট এলাকায় এডিস মশার লার্ভা আছে কি না, তা পরীক্ষার জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে টিম পাঠাই। ওখানকার অবস্থা ভয়াবহ। এসব মালামাল যেহেতু আদালতের, সেজন্য আমরা জেলা জজকে পরিস্থিতি অবহিত করব। জেলা প্রশাসক ও পৌরসভাকে জানাব। আর রবিবার ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটির মিটিং হবে। সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরালো করার ব্যাপারে আলোচনা করা হবে।
কালেক্টরেট চত্বরের ভাগাড়ে এডিস মশার কারখানার ব্যাপারে মন্তব্য জানতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাসান মজুমদারের মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসএমএস পাঠিয়েও জবাব পাওয়া যায়নি। এখানকার এসব পরিত্যক্ত গাড়ি ২০০৭ সালের আগের মামলার আলামত বলে তিনি আগে জানিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশনা ছাড়া এসব পরিত্যক্ত সামগ্রী সরানোরও বিধান নেই বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হারুন-অর-রশীদ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে নারী ও শিশুসহ ৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে জেলায় এ পর্যন্ত ৫৫৯ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন তিন জন। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘যশোর কালেক্টরেট চত্বর যেন আবর্জনার ভাগাড়, এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হওয়ার ঝুঁকি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

যশোর কালেক্টরেট চত্বর যেন আবর্জনার ভাগাড়