দেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন পত্রিকা দৈনিক ইত্তেফাকের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাংবাদিকতার উত্কর্ষে’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
আগামী ২৪ ডিসেম্ব্বর পত্রিকাটির ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে, স্বনামধন্য চারটি সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে নিবন্ধিত শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে কথা বলেন, দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ও অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ, সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী, জিটিভির এডিটর-ইন-চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ও ইউল্যাবের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সুমন রহমান।
কর্মশালায় সাংবাদিকতার বিস্তারিত ইতিহাস জানার গুরুত্ব, স্বাধিকার আন্দোলনে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ও ইত্তেফাকের ভূমিকা তুলে ধরার পাশাপাশি, নতুন সহস্রাব্দে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ফলে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণা ও কৌশলগত যে পরিবর্তনগুলো ঘটেছে সেখানে সাংবাদিকতার এথিকস নিয়ে কথা বলেন বক্তারা।
স্বাগত বক্তব্যে ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিক হতে গেলে যেকোনো বিষয়কে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের দক্ষতা থাকতে হয়। এ দক্ষতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে অবশ্যই সাংবাদিকতার ইতিহাস জানতে হবে। জানতে হবে দেশ বিভাগের আগে ও পরে এ দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি কেমন ছিল। এসব বিষয়ে পড়াশোনা ও পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে বর্তমানে দেশ কোন পথে এগোচ্ছে। সাংবাদিকতার শিক্ষার্থীদের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকতার পাঠ্যক্রমে বিষয়গুলো খুব বেশি বিস্তারিতভাবে পড়ানো হয় না। শিক্ষার্থীদের এসব ইতিহাস জানানোর জন্য শিক্ষকদেরও ভূমিকা রাখতে হবে।’ এছাড়াও তিনি সাংবাদিকতা, মুক্তিযুদ্ধপূর্ব ও পরবর্তী রাজনীতিতে ইত্তেফাক ও তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তব্যের ফাঁকে তরুণদের পড়ে শোনান মানিক মিয়ার বিশ্লেষণধর্মী জনপ্রিয় কিছু কলাম।
শিক্ষার্থীদেরকে বই পড়ার তাগিদ দিয়ে অধ্যাপক হায়াত্ মামুদ তার বক্তব্যে বলেন, ‘পড়ার কোনো বিকল্প নেই, প্রচুর বই পড়তে হবে। তা যে বই-ই হোক, শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর জন্য প্রতিনিয়তই পত্রপত্রিকা, বই, গল্প, উপন্যাস পড়ার অভ্যাস করতে হবে।’
সাংবাদিক ও গবেষক আফসান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশকে জানতে হলে দেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে। মানিক মিয়া ও তাঁর ইত্তেফাক ছিল মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধিকার আন্দোলনের মুখপত্র। প্রতিটি বিষয় একসূত্রে গাঁথা। একটা বাদ দিয়ে অন্যটা জানা সম্ভব নয়।’ জিটিভির এডিটর-ইন-চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা বলেন, ‘সাংবাদিকতার ধরনে পরিবর্তন আসছে। নিউজরুম কনসেপ্ট বদলাচ্ছে। টেলিভিশন সাংবাদিকতাও এখন তারকা বনে যাওয়ার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। তবে যতই পরিবর্তন হোক না কেন, সাংবাদিকতার শিকড়ের শিক্ষাটা ধরে রাখতে হবে।’
সুমন রহমান বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়া অনেকক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা পালন করছে। তবে প্রায়শই এতে নানারকম বানোয়াট খবর, প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। এতে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে মূল গণমাধ্যমগুলোকে সাংবাদিকতায় আরো উত্কর্ষ নিয়ে আসতে হবে।’
এ আয়োজনে পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সামিট গ্রুপ, অ্যাকশন এইড, গ্রীন ডেলটা লাইফ ইন্সুরেন্স লি., ই-সিকিউরিটিজ লি., বিকাশ, ইস্পাহানি ও অরেঞ্জি।
এই ধারাবাহিকতায় আগামীকাল সোমবার ‘ইত্তেফাক-সাংবাদিকতার উত্কর্ষে’ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে।
