‘নদীতে পানি বাড়লে মাদক পাচার বেড়ে যায়’

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩, ১৮:৫১

রাজশাহীর বাঘা সীমান্ত ‘এলাকার আলাইপুর বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মো. মাসুদ হোসেন বলেছেন, আমরা গত এক মাসে তিনটি মাদকের চালান আটক করেছি। এ বিষয়ে থানায় পরিত্যক্ত মাদক উদ্ধার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ সময় ইউএনও জানতে চান, শুধু পরিত্যক্ত উদ্ধার দেখিয়ে মামলা দিচ্ছেন, আসামি নেই কেন?

বুধবার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন-শৃঙ্খলা, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ ও নাশকতা প্রতিরোধবিষয়ক মাসিক সভায় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

কোম্পানি কমান্ডার বলেন, নদীতে পানি বাড়লে মাদক পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে যায়। তবে আগের মতো নির্দিষ্ট স্থানে (ঘাট) নৌকা না থেমে বিভিন্ন স্থানে থামার কারণে মাদক কারবারিদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না।

ছবি: ইত্তেফাক

সভায় সীমান্ত এলাকার স্থানীয় লোকজনসহ জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কোনো সহায়তা পান না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে মাদক উদ্ধার নিয়ে কোম্পানি কমান্ডারের এমন কথা শুনে সভায় উপস্থিত অনেকেই অসন্তুষ্ট হন। 

অপরদিকে সভায় উপস্থিত বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সবুজ বলেন, বাঘা সীমান্তবর্তী উপজেলা। এখানে মাদকের প্রবণতা অনেক বেশি। গত মাসে আমরা থানায় ২০টি মাদক মামলা রেকর্ডসহ বেশ কয়েকজন আসামিকে আটক করি। তবে চলতি মাসে এখন পর্যন্ত আটটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার ভাষ্যমতে, থানায় প্রতি মাসে যে পরিমাণ মামলা রেকর্ড হয় ,তার তিন ভাগের দুই ভাগই মাদক।

বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে এ সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট লায়েব উদ্দিন লাভলু, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জুয়েল আহাম্মেদ, বাঘা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল মোকাদ্দেস, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতা, মনিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম, বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান নুর মোহ্হামদ তুফান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আ ফ ম মাহামুদুল হাসান, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মিলন কুমার দাস ও বাঘা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল লতিব মিঞা ও সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন, চারজন ইউপি চেয়ারম্যান, শিক্ষক মণ্ডলী, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের নেতারা।

আয়োজিত পৃথক চারটি সভায় বক্তারা মাদক, সুদের ব্যবসা, হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়, গণহারে যে কোনো বিষয় নিয়ে মাইকিং, বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, দ্রব্য মূল্যের বাজার মনিটরিং, যানজট নিরসন, শিক্ষার্থীদের  ভিডিও গেমে আসক্তি, ইমো-বিকাশ হ্যাকিং, প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্যের  কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে যাওয়া, হাট বাজার ও খেয়া ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায় , বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম, ফিটসেনবিহীন মোটর যান চলাচল, ভাঙ্গাড়ি ব্যবসার আড়ালে মাদকের কারবার এবং যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যত্রতত্রভাবে গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়টি আলোকপাত করেন।

এদিকে পৃথক চারটি সভার সভাপতি ও বাঘা ইউএনও শারমিন আখতার বলেন, আজকের সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় উঠে এসছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলোতে দেখভাল করা হবে। নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাঘা থানা পুলিশসহ উপস্থিত সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

ইত্তেফাক/পিও