শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) সৈয়দ মুজতবা আলী হলে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের পর হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাদের জিনিসপত্র বের করে রুমে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ৪২০ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, মেহেদী হাসান ও সৈকত রায়, তারা উভয়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ৪২০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।
জানা যায়, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন এক প্রসঙ্গে বলেন, 'আমাদের আমেরিকা যাওয়ার দরকার নাই, আমরা বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশে মরতে চাই।'
এরই পরিপ্রেক্ষিতে পরে মেহেদী হাসান নামের ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেন ‘আমেরিকা আমাদের যাওয়ার কোনো দরকার নেই বলা চেতনাবাদী মহোদয়কে নিয়ে ঘাটাঘাটি করে দেখলাম তার ছেলে বর্তমানে আমেরিকার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বসবাস করছেন।’
সৈকত তার লিখিত অভিযোগপত্রে জানান, ছাত্রলীগ নেতা আজিজুল ইসলাম সীমান্তের নির্দেশে তার ১২ থেকে ১৫ জন অনুসারী মেহেদীর সঙ্গে তার ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তর্কে জড়ায়। একপর্যায়ে মেহেদী হাসানকে মারধর শুরু করেন। বাধা দিলে আমাকেও মারধর করে। পরে আমার ও মেহেদীর বিছানাপত্র কক্ষ থেকে বের করে নিচতলার হলগেটে নামিয়ে দেন এবং গালিগালাজ করে তাকে হল থেকে বের করে দেন। এমনকি পরে ছাত্রনেতা সীমান্ত ও তার অনুসারীরা তার মোবাইল নিয়ে ফাইল ডিলেট ও কাছে থাকা ৩ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নেয়। গত এপ্রিল মাসে হেনস্তার পাশাপাশি হুমকি দিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হলের কক্ষ থেকে বের করে দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তায় হলে আসন ফিরে পায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ফেসবুকে পোস্টকে কেন্দ্র করে আমাকে হল থেকে বের করতে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। পরে আমার সহপাঠী সৈকত বাধা দিলে তাকেও মারধর করে তারা।
অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা আজিজুল ইসলাম সীমান্ত বলেন, সিনিয়র-জুনিয়র ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে শুনি আমি ও পরে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। হল প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা বলেছেন সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা করে দিবেন।
মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আবু সাঈদ আরেফিন খান গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
