বাঘায় শোক দিবসের মঞ্চে ছিলেন না আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান লাভলু

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৩, ২১:৫২

রাজশাহীর বাঘায় জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন না রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাঘা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু। বিষয়টি নিয়ে দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জাতীয় শোক দিবসের এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।

বাঘা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে লায়েব উদ্দিন লাভলু আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লাবলু উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দাওয়াত উপেক্ষা করে তিনি তার লোকজন নিয়ে পৃথক র‌্যালি করে শাহাদৌলা সরকারি কলেজে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘এখানে চারজন জনপ্রতিনিধি রয়েছেন যাদের মুখে নৌকা কিন্তু অন্তরে বিষ। এরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছেন। এদের মধ্যে লাভলু প্রধান। এই নেতা এবার উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসেননি। এমনকি শোক দিবসের মঞ্চেও ছিলেন না।’ 

তিনি বলেন, ‘আমরা এমনও শুনতে পাচ্ছি-লায়েব উদ্দিন লাভলু উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে সংসদ নির্বাচন করার জন্য দলীয় ফরম উত্তোলন করবেন। তবে তাতে কোনো লাভ হবে না। কারণ চারঘাট-বাঘার মানুষ বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর শাহরিয়ার আলমের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ওপর আস্থা রেখে আবারও তাকেই নির্বাচিত করবেন বলে আশা করি।’ 

এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লায়েব উদ্দিন লাভলু বলেন, ‘জাতীয় শোক দিবসে উপজেলা সদরের প্রধান রাস্তায় শোক র‌্যালি করে বাঘা সরকারি কলেজ চত্বরে বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যালে পুস্পস্তবক অর্পণ করে সেখানে মোনাজাত করেছি। আমার সঙ্গে ছিলেন বাঘা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোকাদ্দেস এবং পাকুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজসহ অনেকে। 

তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের মঞ্চে ছিলেন না বলে সত্যতা স্বীকার করেছেন লায়েব উদ্দিন লাভলু। তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের মঞ্চে আমি ছিলাম না।’

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে পাইনি। এলাকার মানুষ যদি চাই, তাহলে সামনে দিনে আবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবো।’ 

ইত্তেফাক/এএএম