জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী ও মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর পান্থপথের হোটেল ওলিও ড্রিম হ্যাভেনের একটি কক্ষে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কীভাবে এ ৭০ বছর বয়সী খ্যাতিমান আলোকচিত্রীর মৃত্যু হয়েছে, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
জানা গেছে, ফিনিক্স ফটোগ্রাফিক সোসাইটি আয়োজিত আলোকচিত্র প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য আনোয়ার হোসেন গত ২৮ নভেম্বর শরীয়তপুর থেকে ঢাকায় এসে ওই হোটেলে ওঠেন। তার দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন প্রতিযোগিতার আয়োজকরা। তারাই প্রতিদিন তাকে নিয়ে যেতেন এবং পৌঁছে দিতেন। গত দুদিন ওই অনুষ্ঠানে আনোয়ার হোসেন অংশগ্রহণও করেন। কিন্তু শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আয়োজকরা এসে তার কক্ষের দরজায় নক করে সাড়াশব্দ না পেয়ে তার মোবাইল নম্বরে কল দেন। কিন্তু রিং হলেও তিনি রিসিভ করেননি। এভাবে প্রায় তিনঘণ্টা অপেক্ষার পর দরজা না খোলায় বেলা সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি হোটেল ম্যানেজারকে জানানো হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে কক্ষের দরজা ভেঙে আনোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়।
হোটেল ম্যানেজার সোহেল হায়দার চৌধুরী জানান, আনোয়ার হোসেন গত ২৮ নভেম্বর বেলা ১১টা ১৭ মিনিটে হোটেলের ৮ তলার ৮০৯ নম্বর কক্ষে চেকইন করেন। এরপর থেকে সেখানেই ছিলেন। শনিবার সকালে আয়োজক সংগঠনের লোকজন এসে তার কক্ষ বন্ধ দেখতে পান। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালে তারা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে মিস্ত্রির সহায়তায় রুমের দরজা ভেঙে বিছানায় তাকে মৃত দেখতে পায়।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি গোপাল গণেশ বিশ্বাস জানান, তার লাশের পাশে ইনহেলার ও হূদরোগের জরুরি কিছু ওষুধ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে হূদরোগে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আলোকচিত্র প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত আসাদুজ্জামান সবুজ জানান, আয়োজনের ছবি নির্বাচনের জন্য কাজ করছিলেন আনোয়ার হোসেন। গত দুদিনের মতো শনিবারও আনোয়ার হোসেনের ছবি বাছাইয়ের কথা ছিল। এ জন্য সকালে আনোয়ার হোসেনের মোবাইলে ফোন দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু সেটা রিসিভ হচ্ছিল না। এরপর হোটেলে এসে ফোনে ও দরজায় নক করেও কোনো সাড়াশব্দ পাননি তারা।
১৯৪৮ সালের ৬ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগানবাব দেউড়িতে আনোয়ার হোসেনের জন্ম। বুয়েটের স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হলেও সেই পাঠ না চুকিয়ে সিনেমাটোগ্রাফি পড়তে চলে যান ভারতের পুনেতে। সূর্যদীঘল বাড়ি সিনেমার মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রাহক হিসাবে তার অভিষেক ঘটে। এ গুণী শিল্পী কয়েক বছর আগে ফ্রান্স থেকে দেশে ফিরে আসেন। থাকতেন শরীয়তপুর জেলা সদরের ডিসির বাসভবন সংলগ্ন এলাকায়। মাঝে মাঝে তিনি ঢাকায় আসতেন। চিত্রগ্রাহক পরিচয়ের চেয়েও তিনি খ্যাতিমান ছিলেন আলোকচিত্রী হিসেবে। দেশের বাইরেও তার সে খ্যাতি রয়েছে। তার হাত ধরেই তৈরি হয়েছেন দেশের অসংখ্য আলোকচিত্রী। আনোয়ার হোসেনের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো হলো- সূর্যদীঘল বাড়ী (১৯৭৯), এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী (১৯৮০), পুরস্কার (১৯৮৩), অন্য জীবন (১৯৯৫), লাল সালু (২০০১) প্রভৃতি।
