প্রাণিসম্পদ অফিসের অনিয়ম: খামারির তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩, ১৭:৫৮

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে করোনা মহামারীতে প্রাণিসম্পদ খাতে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খামারি না হয়েও ভাগ বাটোয়ারার শর্তে স্থানীয় দালাল ও এলএসপির (লাইভষ্টোক সার্ভিস প্রোভাইডার) মাধ্যমে অনেকে তালিকাভুক্ত হয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

করোনাকালীন অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত খামারি টাকা না পেলেও টাকা পেয়েছেন অনেক অখামারী, ওষুধের দোকানদার, প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, জুয়ারী ও রাজনৈতিক নেতারা। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অসাধু কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। আরও অভিযোগ রয়েছে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা ভুয়া তালিকা দিয়ে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে আসা টাকা উত্তোলন ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন।

এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল আজীজের কাছে তথ্য চাইতে গেলে তিনি  প্রথমে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে একদিন সময় নিয়ে পরদিন আসতে বলেন। পরদিন তথ্য চাইতে গেলে তিনি আবেদন করতে বলেন।  ২০২৩ সালের ৩ মে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বরাবর তথ্য চেয়ে আবেদন করে নির্ধারিত সময়ের পরে কোনো ধরনের তথ্য না পাওয়ায় চলতি বছরের ১১ জুন জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোনাক্কা আলীর কাছে তথ্য চেয়ে আপিল করা হয়। আপিল করার পরেও কোনো উত্তর না পেয়ে গত ১১ জুলাই প্রধান তথ্য কমিশনার বরারর অভিযোগ করেও কোনো সুরাহা হয়নি।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রানিসম্পদ দপ্তরের তালিকাভুক্ত খামারি ও প্রাণীপুষ্টির উন্নয়নে সরকারীভাবে তিনটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে করোনাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সহায়তায় এলডিডিপি প্রকল্প, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরেনারি পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারকরন প্রকল্প ও প্রাণিপুষ্টির উন্নয়নে উন্নত জাতের ঘাসচাষ সম্প্রসারণ ও টেকসই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে বর্তমানে শুধুমাত্র এলডিডিপি প্রকল্পের খামারিদের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। অন্য দুই প্রকল্প কাগজে কলমে বাস্তবায়নাধীন থাকলেও বাস্তবে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। অভিযোগ রয়েছে খামারিদের প্রশিক্ষণে মূল খামারিরা অংশগ্রহণ না করায় বদলি প্রশিক্ষণার্থী দিয়ে কিংবা ভুয়া প্রশিক্ষণার্থীর তালিকা জমা দিয়ে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা (এলইও এলডিডিপি প্রকল্প) ডা. আল ফারুক বলেন, করোনাকালীন সময়ে এলডিডিপি প্রকল্পের আওতায় তিনটি ক্যাটাগরিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত খামারিদের তালিকা প্রস্তুত করে পাঠানো হয়। মাঠপর্যায়ে কর্মরত এলএসপিগন এলাকাভিত্তিক খামারিদের তালিকা প্রস্তুত করেন। যারা কমিটিতে থাকেন তারাই ফাইনাল তালিকা পাঠিয়ে দেন। পরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে খামারিদের কাছে প্রণোদনার অর্থ চলে যায়। আমি এ উপজেলায় এসেছি তিনমাস হল। আমি এগুলোর বিষয়ে কিছু জানি না। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে আনুমানিক ২ হাজার খামারির তালিকা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ হাজার থেকে ১২০০ খামারির মোবাইলে টাকা এসেছে। খামারির তালিকা তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিটির যারা জড়িত রয়েছে তাদের প্রত্যেকেই ২০ থেকে ৫০টি ভুয়া মোবাইল নম্বর দিয়ে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। এ জন্য সাংবাদিকদের তালিকা দিতে তারা ভয় পায়। এমনকি সাংবাদিকদের খামারিদের তালিকাসহ তথ্য দিলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে চিঠি দিয়ে তথ্য না দিতে বলা হয়েছে। 

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা নুরুল আজিজ বলেন, এলডিডিপি প্রকল্পসহ সকল প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে। 

ইত্তেফাক/এবি/পিও