রাজশাহীর বাঘা-চারঘাট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, শতাব্দী থেকে শতাব্দী মানুষের সব জ্ঞান জমা হয়ে আছে বইয়ের ভেতর। অন্তহীন জ্ঞানের উৎস হলো বই, আর সেই বইয়ের আবাসস্থল হলো পাঠাগার।
শনিবার (১৯ আগস্ট) বঙ্গমাতার নামে বাঘার আড়ানী পৌর এলাকায় একটি পাঠাগারের উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে তিনি জাতির পিতার সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে আরও ছয়টি পাঠাগার স্থাপন করে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষা অনুরাগীদের কাছে প্রশাংসা অর্জন করেন।
সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পল্লি উন্নয়ন কর্মকর্তা ইমরান আলীর সঞ্চলনাও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রী বলেন, শুধু পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নে সীমাবদ্ধ থাকলেই চলবে না। পাঠ্য বিষয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের বহির্জগতের বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান আহরণেরও চেষ্টা করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, যার মধ্যে জ্ঞানের পিপাসা রয়েছে তার জন্য পাঠাগার। এটি ছিল বাংলার জনক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাঝে। তিনি বলেন, বঙ্গমাতার খুব বেশি পুঁথিগত বিদ্যা নেই কিন্তু বর্তমানে পুরুষদের চেয়ে শিক্ষা-দীক্ষায় নারীরা এগিয়ে।
শাহরিয়ার আলম এই শোকের মাসে জাতির পিতাসহ সব শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর মধ্যে ছিল দেশপ্রেম। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ভাষা অনুবাদ করলে দেখা যাই, প্রায় সব দেশেই বঙ্গবন্ধুর নীতি-নৈতিকতা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে স্মৃতিচারণ করে গেছেন। বিশেষ করে ৪৭ থেকে ৭১ পর্যন্ত তিনি ছিলেন আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। মানুষের পেটের ক্ষুধার চেয়ে কাগজ-কলমের ক্ষুধার গুরুত্ব অনেক বেশি।
বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য দেন আড়ানীর কৃতিসন্তান ও সাংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শফিকুল ইসলাম মুকুট। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানুষের বই পড়ার আগ্রহ থেকেই গ্রন্থাগারের উৎপত্তি। গ্রন্থাগার একটি জাতির বিকাশ ও উন্নতির বড় উৎস। পাঠাগার মানুষের বয়স, রুচি ও চাহিদা অনুযায়ী বই সরবরাহ করে থাকে। গ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে সংহতি, যা দেশ গড়া বা রক্ষার কাজে অমূল্য অবদান। তিনি এই পাঠাগারটিকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান এবং বঙ্গমাতার নামে বাঘায় একাধিক পাঠাগার স্থাপনের জন্য প্রররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী বুলবুল আহাম্মেদ, অবস্বরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং বিশিষ্ট কবি মোবারক হোসেন, বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আফম মাহমুদুল ও স্থানীয় শিক্ষক জুয়েল হোসেন।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঘা উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মো. জুয়েল আহাম্মেদ, নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা খাতুন লতা, আড়ানী পৌর মেয়র মুক্তার আলী, উপজেলা কৃষি অফিসার শফিউল্লা সুলতান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহামুদুল ইসলামসহ শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের নেতারা।
অনুষ্ঠান শেষে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় সবচেয়ে বেশি মার্ক পেয়ে জিপিএ ৫ পাওয়া ১১ জন কৃতি শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এর আগে তিনি আড়ানীতে অবস্থিত তার নিজ বাসভবনে অসহায় গরিব-দুখী ২৫ জন মানুষের মধ্যে অনুদানের চেক বিতরণ করেন।
