গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন

না ফেরার দেশে কলেজছাত্রী ফুলন রানী

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ২২:৩০

শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়ার পর দীর্ঘ ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেল কলেজ ছাত্রী ফুলন রানী বর্মণ। গতকাল বুধবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে ফুলন। নরসিংদী পৌর এলাকার বীরপুর মহল্লার যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের মেয়ে ফুলন রানী বর্মণ গত বছর শহরের উদয়ন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে।

নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন রাতে বাড়ির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে কেক কিনে ঘরে ফেরার পথে পূর্ব থেকে ওত্ পেতে থাকা দুই দুর্বৃত্ত ফুলন রানীকে নির্জন স্থানে নিয়ে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ফুলনকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিত্সকরা      জানান, ফুলনের শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। এ ঘটনার পরদিন তার বাবা যোগেন্দ্র চন্দ্র বর্মণ বাদী হয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আবদুল গাফফার প্রথমে বীরপুর মহল্লার মৃত কেশব চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে রাজু সূত্রধরকে গ্রেফতার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকার ফনিন্দ্র বর্মণের ছেলে আনন্দ বর্মণ ও কিশোরগঞ্জের ডাংরি এলাকার নারায়ণ বর্মণের ছেলে ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষ বর্মণকে গ্রেফতার করেন। গত ২১ জুন রাজু বর্মণ ও ২২ জুন ভবতোষ বর্মণ ফুলনের শরীরে আগুন দেওয়ার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল গাফফার জানান, চিকিত্সাধীন অবস্থায় আমরা ফুলনের জবানবন্দি রেকর্ড করেছি। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় মূল অপরাধী ফুলনের ফুফাতো ভাই ভবতোষসহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করি। মূলত যোগেন্দ্র বর্মণের জমি নিয়ে বিরোধের প্রতিপক্ষ পার্শ্ববর্তী শুকলাল ও হীরা লালকে ফাঁসিয়ে বাড়িসহ জমি ভোগ দখলের চিন্তা থেকেই ভবতোষ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন থেকে হত্যা মামলায় স্থানান্তরিত করা হবে।

ফুলনের বাবা যোগেন্দ্র বর্মণ বলেন, আমি আমার মেয়ে হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। ভাগ্নে ভবতোষ এ ঘটনা ঘটাবে চিন্তাও করতে পারিনি।