২৮ বছর পর সচল সগিরা হত্যা মামলা

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ২২:৩২

২৮ বছর পর সচল হলো ঢাকার সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার বিচার। এই মামলার বিচার কার্যক্রমের উপর দেওয়া স্থগিতাদেশ গতকাল বুধবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলাটির অধিকতর তদন্ত দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে পিবিআইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিলের পর তিন মাসের মধ্যে মামলাটির বিচার কাজ শেষ করতে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতকে বলেছে হাইকোর্ট।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রুল খারিজ করে এই রায় দেন। একইসঙ্গে ২০১০ সাল এবং এর পূর্বের বছরগুলোতে হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত হওয়া ফৌজদারি মামলার তালিকা প্রস্তুতের জন্য রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে ওই তালিকা প্রস্তুত করে তা প্রধান বিচারপতির নিকট উপস্থাপন করতে বলেছে হাইকোর্ট। আদালত বলেন, তালিকায় থাকা ওইসব মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি যদি আমাদের বেঞ্চে পাঠান তাহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা নিষ্পত্তি করা হবে।

সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলা নিয়ে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, মামলার নথিতে দেখা    যাচ্ছে রাষ্ট্রপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দু’জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্যে মারুফ রেজার জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন। যিনি তত্কালীন একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাগ্নে। এত ক্ষমতাবান যে গ্রেফতারের পর উপরমহলের চাপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিলো। এই যদি হয় অবস্থা তাহলে কি ভিকটিমের পরিবার বিচার পাবে না? ২৮ বছর পর অধিকতর তদন্ত ও বিচার হলে এই মামলার ফল কী হবে একমাত্র আল্লাহতায়ালা তা জানেন। 

সগিরা মোর্শেদ সালাম (৩৪) ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সিদ্ধেশ্বরীতে ছিনতাইকারীর গুলিতে মারা যান। এ ঘটনায় ওইদিনই রমনা থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী সালাম চৌধুরী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রিকশাচালক দুজনকে শনাক্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরন নামে এক আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ। সাক্ষ্য চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে ১৯৯১ সালের ২৩ মে মামলাটি অধিকতর তদন্তের আদেশ দেয় ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করেন মারুফ রেজা। ওই বছরের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। একইসঙ্গে অধিকতর তদন্তের আদেশ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। ওই স্থগিতাদেশ চলমান থাকায় দীর্ঘ ২৮ বছর মামলার বিচার কাজ বন্ধ থাকে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপক্ষ ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নিলে হাইকোর্টে রুলের উপর গতকাল শুনানি শুরু হয়।

গতকাল শুনানিতে মারুফ রেজার আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, অনেক পুরনো মামলা। এজাহারে নাম নেই। কিন্তু দুই বছর পর সাক্ষীরা জবানবন্দিতে তার নাম বলেছে। যদিও সাক্ষীরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নয়। আদালত বলেন, অধিকতর তদন্তের বিরুদ্ধে যিনি হাইকোর্টে এসেছেন তিনি কীভাবে সংক্ষুব্ধ হলেন? মামলার বাদি তো এজাহার করেছে অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে। পরে যখন দেখেছে ঠিকভাবে তদন্ত হয়নি তখন সাক্ষ্যে বলেছে উনার নাম। আর অধিকতর তদন্ত হলে আপনি যে আসামি হবেন সেটা কেন মনে করছেন? এ পর্যায়ে মারুফ রেজার আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ভিকটিমের পরিবারকে রাষ্ট্র বা আমরা (বিচার বিভাগ) বিচার দিতে পেরেছি, বলুন? এতে সামগ্রিকভাবে আমাদের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হয়। আদালত বলেন, রিকশাচালক এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তাকে খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা সেটা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, অধিকতর তদন্ত ও বিচার যেন দ্রুত শেষ হয় সেজন্য সময় বেধে দেওয়া উচিত। এটা না হলে দেখা যাবে অধিকতর তদন্তের নামে আরো দশ বছর কেটে গেছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপরোক্ত আদেশ দেয়।