গহীনকে দত্তক হিসেবে পাচ্ছেন কারা

আপডেট : ২৬ জুন ২০১৯, ২২:৪৭

শিশু হাসপাতালের টয়লেট থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতকটির জায়গা হয়েছে আজিমপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমনি নিবাসে। জন্মদাত্রী মায়ের বুকের দুধ না মিললেও নবজাতকটি এখন বেড়ে ওঠছে অন্য এক মায়ের বুকের দুধ পান করে। গত ১৪ মে নবজাতকটিকে উদ্ধারের পর এখন তার বয়স ১ মাস ১৪ দিন। ছোটমনি নিবাসে নবজাতকের পরিচর্যাকারীরা তার নাম রেখেছে ‘গহীন’। আলোচিত শিশু গহীনের দত্তক পেতে আদালতে আবেদন করেছেন সাত দম্পতি।

গতকাল বুধবার এ আবেদনের শুনানি শেষ না হওয়ায় ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারী জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক সাফিয়া শারমিন আগামী ২ জুলাই শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ২০ জুন সাত দম্পতির পৃথক আবেদনে বিবাদী সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও ছোট সোনামনি নিবাসের উপ-তত্ত্বাবধায়ক ও পরিচালকের প্রতি সমন ইস্যু করার আদেশ দেয় আদালত। আবেদনকারী সাত দম্পতির মধ্যে রয়েছেন রাসেল মাহমুদ ও তার স্ত্রী পলি বেগম। তারা আট       বছরের বিবাহিত জীবনে নিঃসন্তান। তারাই প্রথমে হাসপাতালের টয়লেট থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করেন।

গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার মো. শাহ আলম শাহীন ও তার স্ত্রী যুব মহিলা লীগের নির্বাহী সদস্য ও মানবাধিকার সংস্থা আশকের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হামিদা আক্তার মিতা। এ দম্পতির একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। মেসার্স তালবিয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক কাউছার আহমেদ ও মিসেস ভিয়েনা আক্তারও গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন। তারা নিঃসন্তান। গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার পশ্চিম নাখালপাড়ার বাসিন্দা নিঃসন্তান বদরুদ্দোজা চৌধুরী। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) সিনিয়র সাব-এডিটর শামীমা ইয়াসমিনও গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন। তিনিও নিঃসন্তান।

গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন নিঃসন্তান দম্পতি পপুলার অ্যাসোসিয়েটের মালিক মো. শফিউদ্দিন ও তার স্ত্রী শায়লা সফি। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ঝিনাইদহের বাসিন্দা মো. এরশাদ আলী ও তার স্ত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার গহীনকে পেতে আবেদন করেছেন। এ দম্পতিও নিঃসন্তান।

হাসপাতালে ফেলে যাওয়া দুই নারীর

পরিচয় এখনো জানা যায়নি

এদিকে নবজাতকের ‘আসল’ বাবা-মাকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দুই নারীর চেহারা দেখা গেলেও তাদের নাম-পরিচয় এখনো উদ্ধার হয়নি। শিশু হাসপাতালের টয়লেটে  শিশুটিকে ফেলে যাওয়া দুই নারীর পরিচয়ের ব্যাপারে শেরে বাংলা নগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সী বলেন, হাসপাতালের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দুই নারীকে ওই নবজাতককে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে তাদের ছবি একটু অস্পষ্ট। ছবি দুটি অনেককেই দেখানো হয়েছে। কেউ শনাক্ত করতে পারেনি। এ ঘটনায় দায়ের করা জিডিটির তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করা হয়েছে।