ই-গেটের কার্যকারিতা নিশ্চিত করুন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৩, ০৭:৩০

বর্তমানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলিতেছে। এই বছরের অক্টোবরে ইহার শুভ উদ্বোধন হইবার কথা রহিয়াছে। থার্ড টার্মিনাল এই সরকারের অন্যতম মেগা প্রকল্প। ইহা চালু হইলে বাংলাদেশে বিমান যোগাযোগব্যবস্থার নূতন দিগন্ত উন্মোচিত হইবে। যাত্রীগণ উন্নত দেশের মতো সুযোগ-সুবিধা লাভ করিবেন। যেই হেতু থার্ড টার্মিনাল উদ্বোধনের সময় ক্রমেই আগাইয়া আসিতেছে তাই এখন চলিতেছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ইহার অংশ হিসাবে ই-গেট নির্মাণের কাজও চলিতেছে দ্রুতগতিতে। থার্ড টার্মিনালে ৬২টি ই-গেট স্থাপন করা হইবে বলিয়া জানা যায়। ইহাতে যে কাহারো সন্তোষ প্রকাশ করিবার কথা। কেননা ই-গেটের মাধ্যমে মাত্র ১৮ সেকেন্ডে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব; কিন্তু দেশে এই যাবত যেই সকল ই-গেট স্থাপন করা হইয়াছে তাহার কার্যকারিতা লইয়া ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠিয়াছে। অভিযোগ রহিয়াছে যে, ২৬টি ই-গেট অকার্যকর এবং শোপিস হিসাবে পড়িয়া রহিয়াছে। তাই থার্ড টার্মিনালে ই-গেট নির্মাণের পাশাপাশি চালুকৃত ই-গেটগুলির সমস্যা দূর করা অত্যাবশ্যক।

ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের আওতায় দেশের সকল বিমান ও স্থলবন্দরে ই-গেট বসানোর উদ্যোগ লওয়া হইয়াছে। গত বছর জুন মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম ই-গেট চালু হয়; কিন্তু বিদ্যমান ই-গেটগুলির অকার্যকারিতা লইয়া তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। জার্মানির ভেরিডোজ কোম্পানি হইতে কয়েক দফায় এই পর্যন্ত ৫০টি ই-গেট সরবরাহ করা হইয়াছে। ইতিমধ্যে তিনটি বিমান ও দুইটি স্থলবন্দরে ৪৪টি ই-গেট বসানো হইয়াছে; কিন্তু অত্যাধুনিক এই মেশিনগুলি পরিচালনার জন্য যে জনবল দরকার, তাহা এখনো দেওয়া হয় নাই। এই সংক্রান্ত ৪০ জনের জনবলের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হইয়াছে; কিন্তু তাহা এখনো অনুমোদন পায় নাই। ই-গেট স্থাপনের পাশাপাশি কেন এই সংক্রান্ত জনবল নিয়োগ দেওয়া হইবে না? সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এমন কালক্ষেপণ পরিলক্ষিত হইতেছে—যাহা দুঃখজনক। জনগণের উন্নয়নে সরকারপ্রধানের আন্তরিকতার কোনো অভাব নাই; কিন্তু যাহারা মাঠ পর্যায়ে সেই সকল প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রহিয়াছেন, তাহারা প্রকল্প হইতে জনগণ কীভাবে দ্রুততম সময়ে শতভাগ সুফল লাভ করিবেন, সেই ব্যাপারে দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে পারিতেছেন না। সরকারি অর্থের অপচয়ের ইহাও উল্লেখযোগ্য কারণ।

সূত্র মতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে ২৮টি এবং বেনাপোল ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ছয়টি ই-গেট বসানো হইয়াছে; কিন্তু ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় ইহার সুফল মিলিতেছে না। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হইল পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন ও অথেনটিকেশন। ই-গেটের কল্যাণে এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়। যাত্রীরা এই ব্যাপারে উৎসাহিত হইলেও ই-গেটে ঢুকিলে উলটা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হইতেছেন। পাসপোর্টে সিল মারিবার জন্য দাঁড়াইতে হইতেছে ইমিগ্রেশন পুলিশের কাউন্টারে। তাহা হইলে ই-গেট বসানোর কি কোনো অর্থ থাকিতে পারে? কোনো কোনো ক্ষেত্রে বলা হইতেছে, ই-গেট এখনো অফিশিয়ালি চালু হয় নাই। এই জন্য পুলিশকে এমন ব্যবস্থা নিতে হইতেছে। অর্থাৎ সেইখানে ই-গেট বসানো হইয়াছে নামকাওয়াস্তে। তাহা ছাড়া বাংলাদেশের ই-গেট পদ্ধতি এখনো আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হইতে পারে নাই। আইকাও তথা আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অরগানাইজেশনের সনদ লাভ করে নাই। এক বছরের ব্যবধানেও আইকাও সনদ লাভ না করাটা কি বড় ব্যর্থতা নহে? যদি পুরাতনগুলি কার্যকর না হয়, তাহা হইলে নূতন ই-গেট বসাইয়া লাভ কী—এমন প্রশ্ন আজ কি অসংগত? যেই হেতু থার্ড টার্মিনাল লইয়া আমরা অত্যন্ত আশাবাদী, তাই এই সকল সংকট ও সীমাবদ্ধতাগুলি লইয়া এখনই কার্যকর ব্যবস্থা লওয়া প্রয়োজন।

এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট যাত্রীর মাত্র ২ শতাংশ ব্যবহার করিতেছেন ই-গেট সুবিধা। অথচ বিমানবন্দর আধুনিকায়ন ও সকল যাত্রীর সুবিধার জন্যই ই-গেট প্রয়োজন। অতএব, স্মার্ট বাংলাদেশের স্লোগান বাস্তবায়ন করিতে হইলে পূর্বে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ যত প্রকারের বন্দর আছে, সেইখানে ই-গেটের বর্তমান সকল জটিলতা দূর করিয়া যথাযথ পরিষেবা অনতিবিলম্বে চালু করিতে হইবে।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন