বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা প্রয়োগে উন্নত হবে পরিবেশ

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০১:০০

রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে ‘বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০২’ প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিধিমালার পাশাপাশি বায়ুদূষণ রোধ নির্দেশিকা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। বায়ুদূষণ রোধ হলে পরিবেশ উন্নতির পাশাপাশি রোগ ও মৃত্যু হ্রাস পাবে। বায়ুদূষণ বিধিমালা বাস্তবায়ন নিশ্চিতে দূষণকারীদের চিহ্নিত এবং আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সের (বিইউএইচএস) ইব্রাহীম অডিটোরিয়ামে ‘জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় বায়ুমান উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স, সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স-(সিএলপিএ) ও ‘ওপেন সিসেমি গেজ জাপান ফান্ড অব গ্লোবাল এনভারোনমেন্ট-(জেএফজিই) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্স (বিইউএইচএস) এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ফরিদুল আলম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে গবেষণামূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে এবং প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। বাংলাদেশে যে আইন ও নীতিমালা বিদ্যমান রয়েছে সেগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স-(সিএলপিএ)-এর সেক্রেটারি সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, ঢাকা একটি অসাধারণ সুন্দর নগর করা ছিল। কিন্তু আমাদের দায়িত্বহীনতার কারণে এ নগর আজ দূষণের শিকার। ঢাকার বায়ুদূষণের অন্যতম প্রধান কারণ নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া, ইটভাটা। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, বায়ুদূষণ রোধ নির্দেশিকায় দূষণকারীদের চিহ্নিত, নির্মাণ কাজ থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের ধোঁয়া হ্রাস, শিল্প স্থাপনা এবং ইটভাটার ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আর এসব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হলে ঢাকার বায়ুদূষণ কমে আসবে। তবে এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তরকে নেতৃত্ব দিতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ অধিদপ্তরে উচিত আইন অনুসারে প্রকল্পগুলোকে অডিট করা জরুরি।

বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির সভাপতি প্রফেসর গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ডেল্টা প্ল্যান ও এসডিজি অর্জন করতে হলে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট আইন কার্যকর করতে হবে। ঢাকা ইনটারন্যাশন্যাল ইউনিভার্সিটি-ডিআইইউর সহযোগী অধ্যাপক বজলুর রহমান তরফদার বলেন, শুধু ঢাকা নয়, সমগ্র দেশের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে বায়ুদূষণ হ্রাস করণে কাজ করতে হবে। ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, বায়ুদূষণ সংক্রান্তে নাগরিকদের অধিকার আদায়ের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন। বিইউএইচএসর সহকারী অধ্যাপক পলাশ চন্দ্র বণিক বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। গৃহস্থালিতে বায়ুদূষণ বিষয়ে সচেতন করা অনেক বেশি জরুরি। আইপিএইচআরসির নির্বাহী পরিচালক সুশান্ত সিনহা বলেন, বায়ুদূষণ রোধে মানুষের মনোভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন দরকার। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

সিএলপিএর রিসার্চ কনসালট্যান্ট অধ্যাপক আ ফ ম সারোয়ার বলেন, আমরা যারা বেশির ভাগ সময় ঘরের অভ্যন্তরে থাকি সে কারণে গৃহস্থালির বায়ুরমান উন্নয়নে কাজ করতে হবে। ওপেন সিসেমির সিইও কেন কোজাই বলেন, জাপানে এক সময় খুব বায়ুদূষণ ছিল, কিন্তু জাপান সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নানামুখী উদ্যোগের কারণে বর্তমানে ভালো অবস্থা। বাংলাদেশ জাপানের এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। সভাপতির বক্তব্যে বিইউএইচএসর ডিন অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সংবিধান প্রস্তুত অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে। নিজেদের সচেতনতা সবার আগে প্রয়োজন, এক্ষেত্রে পাবলিক হেলথ এক্টিভিস্ট ও কমিউনিটির সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

ইত্তেফাক/এমএএম