একাত্তরের মতো ঐক্য গড়ে কেন্দ্র পাহারা দিন :ড. কামাল

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৩০

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, নির্বাচন যেন সুষ্ঠুভাবে হয়, সেজন্য দেশের মালিক হিসেবে জনগণকে প্রতিটি কেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। আমরাও বলছি, পত্রপত্রিকায় সবাই আশঙ্কা করছেন যে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে নানাভাবে বাধা দেওয়া হবে। সেই বাধাগুলো সরকার  বা যে কেউ দিক না কেন, আমাদের সবাই মিলে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে রক্ষা করতে হবে। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশবাসীর প্রতি এই আহ্বান জানান।

ড. কামাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, আপনারা নির্বাচনের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন। পাড়া-প্রতিবেশি সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে একদম সকালে সকালে কেন্দ্রে চলে যেতে পারেন। প্রত্যেক বাড়িতে যত  ভোটার আছে সবাই যেন ভোট দেয় সেই ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

লিখিত বক্তব্যে ড. কামাল বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের পর সব আসনেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী নির্ধারিত  হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ সব কর্মকর্তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান- আপনারা দলীয় আনুগত্যের ঊর্ধ্বে উঠে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুন। পোলিং এজেন্টরা যাতে নির্ভয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করুন।

ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় গেছি। সকলে বলেছেন যে, তারা পরিবর্তন চায়, অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। আর অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন এটা শুধু দয়া বা অনুগ্রহের ব্যাপার না। এটা সংবিধানের প্রতিশ্রুতি। আমাদের সংবিধানে আছে জনগণ দেশের মালিক। সেই মালিকানা তারা প্রয়োগ করবে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে। সেই বিষয়টি ২ তারিখ থেকে আগামী ২৮ দিন জনগণকে জানাতে হবে। আমি এ ব্যাপারে নাগরিক ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাচ্ছি। যাতে সঠিক তথ্য জনগণ জানতে পারে সেজন্য গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা থাকতে হবে। দৈনন্দিন তথ্য দিন, যেখানে আইন লঙ্ঘন হচ্ছে সেটা জানান, আইন অমান্য করলে তা ধরিয়ে দেওয়া গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বরেন,  নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী হচ্ছে পাইকারি হারে গ্রেপ্তার। তফসিল ঘোষণার পরে সাতশ’র উপরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরমধ্যে তিনজন প্রার্থীও আছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন, কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন। আমার কথা হল স্বাভাবিক পরিবেশ রাখার জন্য এই গ্রেপ্তার বন্ধ করা হোক। যাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, বিশেষ করে যারা প্রার্থী তাদের সকলকে মুক্ত করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মীদের তালিকা সরবরাহ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই নির্বাচনে আমরা অংশ নিচ্ছি গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনার জন্য, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বন্দি নেতাকর্মীদের মুক্ত করার জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। কিন্তু তফসিল ঘোষণার পরেও এখনও বেআইনিভাবে গায়েবি মামলায় শত শত নেতাকর্মীকে আটক করা হচ্ছে। প্রার্থী যারা হচ্ছেন, যারা আগে এমপি ছিলেন তাদেরকেও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে নির্বাচনের লেভেল প্লেইং ফিল্ড কোনো মতেই তৈরি হবে না। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আশা করব ড. কামাল হোসেনের এই সংবাদ সম্মেলনের পরে গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। অন্যথায় নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু করার জন্য আমরা বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

সংবাদ সম্মেলনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ও নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মো. মনসুর, গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ  চৌধুরী, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, গণফোরাম নেতা ড. রেজা কিবরিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।